সংবাদ

শিক্ষকবিহীন সিন্ডিকেট সভা, চুয়েটে তীব্র অচলাবস্থা


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

শিক্ষকবিহীন সিন্ডিকেট সভা, চুয়েটে তীব্র অচলাবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

টানা ২৫ দিনের সর্বাত্মক শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক প্রতিনিধি ও সদস্যদের কেউ অংশ নেননি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনলাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এই জরুরি সভা ডেকেছিলেন। তবে চুয়েটের নিজস্ব শিক্ষক সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং অধিকাংশ সদস্য সাড়া না দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক প্রতিনিধিদের (ছয়জন) কেউ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নিয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “সভায় ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়ে সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।”

শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, তিনি ছুটিতে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারেননি। আরেক সদস্য অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা জানান। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজীও ব্যস্ততার কারণে সভায় যুক্ত হতে পারেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং অচলাবস্থা নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন চুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছিলেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ওই দিনই শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে পুনরায় তালা দিলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন তিনি। পরে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি সার্কিট হাউসে ফিরেই এই সিন্ডিকেট সভা ডাকেন। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের শাটডাউনের ২৫তম দিন; একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষকবিহীন সিন্ডিকেট সভা, চুয়েটে তীব্র অচলাবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

টানা ২৫ দিনের সর্বাত্মক শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক প্রতিনিধি ও সদস্যদের কেউ অংশ নেননি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনলাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এই জরুরি সভা ডেকেছিলেন। তবে চুয়েটের নিজস্ব শিক্ষক সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং অধিকাংশ সদস্য সাড়া না দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক প্রতিনিধিদের (ছয়জন) কেউ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নিয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “সভায় ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়ে সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।”

শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, তিনি ছুটিতে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারেননি। আরেক সদস্য অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা জানান। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজীও ব্যস্ততার কারণে সভায় যুক্ত হতে পারেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং অচলাবস্থা নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন চুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছিলেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ওই দিনই শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে পুনরায় তালা দিলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন তিনি। পরে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি সার্কিট হাউসে ফিরেই এই সিন্ডিকেট সভা ডাকেন। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের শাটডাউনের ২৫তম দিন; একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত