সংবাদ

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়ে দিল ১৪৩ বছরের সিটি হল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়ে দিল ১৪৩ বছরের সিটি হল
দুই বিশ্বযুদ্ধে টিকে থাকা ফ্রান্সের সিটি হল পুড়ছে।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের মধ্যে লিমোজ শহরের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে টিকে থাকা প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো এই ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মরিস বারাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিমের অংশটি ছাড়া ভবনটির পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। হলের বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

১৪৩ বছরের পুরোনো এই ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকে ‘ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ঘটনাটিকে ‘দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানান মরিস বারাত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি হলের বাইরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী ভবনটির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেন।

শত শত মানুষ সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছেন। ভবনটিতে যখন আগুন জ্বলছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন স্থানীয় কাউন্সিলর এক পৌরকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভবন আগুনে পুড়ছে দেখে ওই কর্মী কাঁদছিলেন।

ওই বিক্ষোভের সময় লিমোজ শহরের কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানেও লুটপাট চালানো হয়েছে। এদিকে লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কাজ করা সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন রয়টার্সকে জানিয়েছে, এদিন প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন বলে তাদের ধারণা।

প্যারিসে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে যায়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়ে দিল ১৪৩ বছরের সিটি হল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের মধ্যে লিমোজ শহরের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে টিকে থাকা প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো এই ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মরিস বারাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিমের অংশটি ছাড়া ভবনটির পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। হলের বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

১৪৩ বছরের পুরোনো এই ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকে ‘ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ঘটনাটিকে ‘দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানান মরিস বারাত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি হলের বাইরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী ভবনটির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেন।

শত শত মানুষ সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছেন। ভবনটিতে যখন আগুন জ্বলছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন স্থানীয় কাউন্সিলর এক পৌরকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভবন আগুনে পুড়ছে দেখে ওই কর্মী কাঁদছিলেন।

ওই বিক্ষোভের সময় লিমোজ শহরের কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানেও লুটপাট চালানো হয়েছে। এদিকে লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কাজ করা সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন রয়টার্সকে জানিয়েছে, এদিন প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন বলে তাদের ধারণা।

প্যারিসে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে যায়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত