আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কার ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গরু দিয়ে জমি চাষ’ বা হালের প্রথা দিন দিন বিলুপ্তির পথে। একসময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গ্রামগুলোতে কাকডাকা ভোরে কাঁধে লাঙল-জোয়াল আর এক জোড়া গরু নিয়ে কৃষকদের মাঠে যাওয়ার দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের রূপকথা। কিন্তু পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের দাপটে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি।
চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় এখন কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে জমি চাষ সম্ভব হলেও হারাতে বসেছে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা।
পৌরসভার বড়াইল গ্রামের পঁচাশিরোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক কাছন শীল আফসোস করে বলেন, “আগে আমরা পরম মমতায় গরু দিয়ে খেত চষতাম। পাওয়ার টিলার আসার পর থেকে সেই ঐতিহ্য এখন অতীত হতে চলেছে। এখন আর মাঠে গরুর পালের ডাক বা কৃষকের হাকডাক শোনা যায় না।
একই সুর কালেঙ্গা এলাকার কৃষক মর্তুজ আলীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “গরুর লাঙল দিয়ে জমি চাষ করলে মাটির নিচের স্তর ভালোভাবে আলগা হতো এবং গোবর ও প্রাকৃতিকভাবে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেত। এখন পাওয়ার টিলারের কারণে মাটির উর্বরতা ও স্বাভাবিক গুণগত মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।”
কাদিরখিল এলাকার প্রবীণ কৃষক আইয়ুব আলী মনে করেন, বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী গরু-লাঙল প্রথা বাঙালি কৃষিসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের জন্য অন্তত এই ইতিহাসের স্মারকগুলো টিকিয়ে রাখা উচিত।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, গরু-লাঙল দিয়ে জমি চাষ ছিল আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও পরিবেশবান্ধব কৃষির অন্যতম ভিত্তি। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের কারণে এটি হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এসব সাংস্কৃতিক দিক সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কার ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গরু দিয়ে জমি চাষ’ বা হালের প্রথা দিন দিন বিলুপ্তির পথে। একসময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গ্রামগুলোতে কাকডাকা ভোরে কাঁধে লাঙল-জোয়াল আর এক জোড়া গরু নিয়ে কৃষকদের মাঠে যাওয়ার দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের রূপকথা। কিন্তু পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের দাপটে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি।
চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় এখন কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে জমি চাষ সম্ভব হলেও হারাতে বসেছে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা।
পৌরসভার বড়াইল গ্রামের পঁচাশিরোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক কাছন শীল আফসোস করে বলেন, “আগে আমরা পরম মমতায় গরু দিয়ে খেত চষতাম। পাওয়ার টিলার আসার পর থেকে সেই ঐতিহ্য এখন অতীত হতে চলেছে। এখন আর মাঠে গরুর পালের ডাক বা কৃষকের হাকডাক শোনা যায় না।
একই সুর কালেঙ্গা এলাকার কৃষক মর্তুজ আলীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “গরুর লাঙল দিয়ে জমি চাষ করলে মাটির নিচের স্তর ভালোভাবে আলগা হতো এবং গোবর ও প্রাকৃতিকভাবে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেত। এখন পাওয়ার টিলারের কারণে মাটির উর্বরতা ও স্বাভাবিক গুণগত মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।”
কাদিরখিল এলাকার প্রবীণ কৃষক আইয়ুব আলী মনে করেন, বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী গরু-লাঙল প্রথা বাঙালি কৃষিসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের জন্য অন্তত এই ইতিহাসের স্মারকগুলো টিকিয়ে রাখা উচিত।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, গরু-লাঙল দিয়ে জমি চাষ ছিল আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও পরিবেশবান্ধব কৃষির অন্যতম ভিত্তি। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের কারণে এটি হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এসব সাংস্কৃতিক দিক সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন