আমরা যখন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছাই, তখন বিকেল ৪টা। জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মনে হলো, দীর্ঘ ভ্রমণপথের সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। এখানকার সাজানো-গোছানো, মনোরম পরিবেশ শরীর ও মনকে চাঙা করে দিল। চারপাশের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর পর্যটকদের পদচারণা মনে এনে দিল ভালো লাগার এক অনন্য অনুভূতি। মুহূর্তেই খুঁজে পেলাম প্রশান্তি।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১১টায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা পাঁচজন সতীর্থ পঞ্চগড় ভ্রমণে বের হই। আমাদের ভ্রমণের মূল গন্তব্য ছিল তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। ট্রেনটির রাত সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি আসে রাত দেড়টায়। কী আর করা! টিকিট কাটা হয়ে গেছে। যেতেই হবে। তাই আমরা ট্রেনে চড়ে বসলাম।
আমাদের এই ভ্রমণের সঙ্গী ছিলেন মো. ইকবাল হোসাইন, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক; মো. আব্দুস সালাম, সহকারী অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ; মো. শাহ আলম, সহকারী অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ; মো. ফরহাদ আহমেদ, শরীরচর্চা শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ এবং আমি।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ২টায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে আমাদের বহনকারী ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। ভোর ৬টায় নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৭টায় শান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে ট্রেনটি ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতি করে। সেখান থেকে আবার যাত্রা শুরু করে ৪০ মিনিট পর হিলি স্থলবন্দরে পৌঁছায়। সকাল ১০টায় ট্রেনটি পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানেও ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতি ছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় ট্রেনটি আবার ছেড়ে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুরে পৌঁছায়। দিনাজপুর থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এবং দুপুর ১টায় ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছায়। ঠাকুরগাঁও স্টেশনে ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে। সবশেষে দুপুর ঠিক ২টায় পঞ্চগড়ে পৌঁছাই আমরা।
দীর্ঘ এই যাত্রায় ক্লান্তি আর ক্ষুধা ধীরে ধীরে ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছিল। পঞ্চগড়ে ট্রেন থেকে নামার পর মনে হলো, এবার যেন কিছুটা স্বস্তি মিলল।
ক্ষুধা আর ক্লান্তি যখন একাকার, তখন দুপুরের খাবারটিকে অমৃত মনে হচ্ছিল। খাবারের মেনুতে ছিল সাদা ভাত, রসুনের ভর্তা, মিশ্র সবজি হিসেবে করলা ভাজি, টেংরা মাছের ঝোল ও পাতলা ডাল। পঞ্চগড় শহরের মৌচাক রেস্টুরেন্টে আমরা দুপুরের খাবার খাই। এরপর হোটেলের সামনে থেকে গাড়িতে চড়ে তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হই।
আমরা যখন তেঁতুলিয়ায় পৌঁছাই, তখন বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। পঞ্চগড় শহর থেকে তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধার পথে রাস্তার দুই পাশে সমতল ভূমিতে চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান। সারি সারি সাজানো চা-গাছের সবুজ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় এসে পৌঁছাই।
এখানে বলে রাখি, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আমার বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাই ইমদাদুল হক বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ। পুরো ভ্রমণের বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ করেই আমরা বের হই। তিনি ফোনে জানালেন, আগে বাংলাবান্ধা ঘুরে আসতে। এরপর তেঁতুলিয়া ঘুরে দেখা সহজ হবে। তার পরামর্শ অনুযায়ী, তেঁতুলিয়ায় এসে আমরা গাড়ি পরিবর্তন করি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি গাড়িতে চড়ে বাংলাবান্ধার উদ্দেশে রওনা হই।
বিকেল ঠিক ৪টায় আমরা বাংলাবান্ধায় পৌঁছাই। গাড়ি থেকে নেমে অটোরিকশায় জিরো পয়েন্টে যেতে হয়। আমরাও তা-ই করি। পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। আর পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের কিছু আলোকচিত্র ধারণ করি। বাইরে থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ঘুরে দেখি। ইমিগ্রেশন অফিস ও উঁচু পতাকা চত্বরও ঘুরে দেখি। বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী বড় বড় ট্রাক ও লরি চলাচলের দৃশ্য চোখে পড়ে। জিরো পয়েন্টের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থলবন্দরের কর্মচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততাও আমাদের মুগ্ধ করে। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা কাটিয়ে অটোরিকশায় তেঁতুলিয়ার পথে রওনা হই। ফেরার পথে রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা বিভিন্ন আকারের পাথর চোখে পড়ে। বিকেল ৫টায় আমরা তেঁতুলিয়ায় ফিরে আসি।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ভাই আগেই আমাদের এ কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দিনের দুই সময়ে—ভোরে সূর্যোদয়ের পর এবং সূর্যাস্তের আগে—পাহাড়টির দেখা মেলে।
আমরা সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বরে পৌঁছাই। কিন্তু আকাশ পরিষ্কার না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কী আর করা! আমরা জায়গাটি ঘুরে দেখি। পাশ দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করি। নিজেদের কিছু আলোকচিত্রও ধারণ করি। এরই মধ্যে অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ভাই ফোন করে আমাদের তার বাসায় যেতে বলেন।
আমরা তার বাসায় যাই এবং কিছুটা বিশ্রাম নিই। ভাই আমাদের আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করেন। ফেরার টিকিটও তিনি আগেই কেটে রেখেছিলেন। রাত ৮টায় তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে তেঁতুলিয়া বাস কাউন্টারে আসেন। হানিফ পরিবহনের একটি বাসে তুলে দিয়ে তিনি বিদায় নেন। আমরাও বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই।
পেছনে ফেলে আসি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের এক জ্যেষ্ঠ ভাইয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতা। সঙ্গে নিয়ে ফিরি আনন্দময় ভ্রমণের অসংখ্য স্মৃতি।
[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আমরা যখন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছাই, তখন বিকেল ৪টা। জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মনে হলো, দীর্ঘ ভ্রমণপথের সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। এখানকার সাজানো-গোছানো, মনোরম পরিবেশ শরীর ও মনকে চাঙা করে দিল। চারপাশের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর পর্যটকদের পদচারণা মনে এনে দিল ভালো লাগার এক অনন্য অনুভূতি। মুহূর্তেই খুঁজে পেলাম প্রশান্তি।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ১১টায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা পাঁচজন সতীর্থ পঞ্চগড় ভ্রমণে বের হই। আমাদের ভ্রমণের মূল গন্তব্য ছিল তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। ট্রেনটির রাত সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি আসে রাত দেড়টায়। কী আর করা! টিকিট কাটা হয়ে গেছে। যেতেই হবে। তাই আমরা ট্রেনে চড়ে বসলাম।
আমাদের এই ভ্রমণের সঙ্গী ছিলেন মো. ইকবাল হোসাইন, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক; মো. আব্দুস সালাম, সহকারী অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ; মো. শাহ আলম, সহকারী অধ্যাপক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ; মো. ফরহাদ আহমেদ, শরীরচর্চা শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ এবং আমি।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ২টায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে আমাদের বহনকারী ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। ভোর ৬টায় নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৭টায় শান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে ট্রেনটি ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতি করে। সেখান থেকে আবার যাত্রা শুরু করে ৪০ মিনিট পর হিলি স্থলবন্দরে পৌঁছায়। সকাল ১০টায় ট্রেনটি পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানেও ৩০ মিনিটের যাত্রাবিরতি ছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় ট্রেনটি আবার ছেড়ে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুরে পৌঁছায়। দিনাজপুর থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এবং দুপুর ১টায় ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছায়। ঠাকুরগাঁও স্টেশনে ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে। সবশেষে দুপুর ঠিক ২টায় পঞ্চগড়ে পৌঁছাই আমরা।
দীর্ঘ এই যাত্রায় ক্লান্তি আর ক্ষুধা ধীরে ধীরে ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছিল। পঞ্চগড়ে ট্রেন থেকে নামার পর মনে হলো, এবার যেন কিছুটা স্বস্তি মিলল।
ক্ষুধা আর ক্লান্তি যখন একাকার, তখন দুপুরের খাবারটিকে অমৃত মনে হচ্ছিল। খাবারের মেনুতে ছিল সাদা ভাত, রসুনের ভর্তা, মিশ্র সবজি হিসেবে করলা ভাজি, টেংরা মাছের ঝোল ও পাতলা ডাল। পঞ্চগড় শহরের মৌচাক রেস্টুরেন্টে আমরা দুপুরের খাবার খাই। এরপর হোটেলের সামনে থেকে গাড়িতে চড়ে তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হই।
আমরা যখন তেঁতুলিয়ায় পৌঁছাই, তখন বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। পঞ্চগড় শহর থেকে তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধার পথে রাস্তার দুই পাশে সমতল ভূমিতে চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান। সারি সারি সাজানো চা-গাছের সবুজ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় এসে পৌঁছাই।
এখানে বলে রাখি, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আমার বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাই ইমদাদুল হক বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ। পুরো ভ্রমণের বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ করেই আমরা বের হই। তিনি ফোনে জানালেন, আগে বাংলাবান্ধা ঘুরে আসতে। এরপর তেঁতুলিয়া ঘুরে দেখা সহজ হবে। তার পরামর্শ অনুযায়ী, তেঁতুলিয়ায় এসে আমরা গাড়ি পরিবর্তন করি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি গাড়িতে চড়ে বাংলাবান্ধার উদ্দেশে রওনা হই।
বিকেল ঠিক ৪টায় আমরা বাংলাবান্ধায় পৌঁছাই। গাড়ি থেকে নেমে অটোরিকশায় জিরো পয়েন্টে যেতে হয়। আমরাও তা-ই করি। পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। আর পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের কিছু আলোকচিত্র ধারণ করি। বাইরে থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ঘুরে দেখি। ইমিগ্রেশন অফিস ও উঁচু পতাকা চত্বরও ঘুরে দেখি। বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী বড় বড় ট্রাক ও লরি চলাচলের দৃশ্য চোখে পড়ে। জিরো পয়েন্টের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থলবন্দরের কর্মচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততাও আমাদের মুগ্ধ করে। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা কাটিয়ে অটোরিকশায় তেঁতুলিয়ার পথে রওনা হই। ফেরার পথে রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা বিভিন্ন আকারের পাথর চোখে পড়ে। বিকেল ৫টায় আমরা তেঁতুলিয়ায় ফিরে আসি।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ভাই আগেই আমাদের এ কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দিনের দুই সময়ে—ভোরে সূর্যোদয়ের পর এবং সূর্যাস্তের আগে—পাহাড়টির দেখা মেলে।
আমরা সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বরে পৌঁছাই। কিন্তু আকাশ পরিষ্কার না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কী আর করা! আমরা জায়গাটি ঘুরে দেখি। পাশ দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করি। নিজেদের কিছু আলোকচিত্রও ধারণ করি। এরই মধ্যে অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ভাই ফোন করে আমাদের তার বাসায় যেতে বলেন।
আমরা তার বাসায় যাই এবং কিছুটা বিশ্রাম নিই। ভাই আমাদের আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করেন। ফেরার টিকিটও তিনি আগেই কেটে রেখেছিলেন। রাত ৮টায় তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে তেঁতুলিয়া বাস কাউন্টারে আসেন। হানিফ পরিবহনের একটি বাসে তুলে দিয়ে তিনি বিদায় নেন। আমরাও বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই।
পেছনে ফেলে আসি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের এক জ্যেষ্ঠ ভাইয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতা। সঙ্গে নিয়ে ফিরি আনন্দময় ভ্রমণের অসংখ্য স্মৃতি।
[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]

আপনার মতামত লিখুন