সংবাদ

ইনানীতে নলকূপ খননে মিলল গ্যাস ও কনডেনসেট


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

ইনানীতে নলকূপ খননে মিলল গ্যাস ও কনডেনসেট
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে অনবরত গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটছে। আগুনের তীব্রতা না কমে দিন দিন বাড়তে থাকায় এবং নির্গত গ্যাসের সঙ্গে ‘কনডেনসেট’ বা তরল হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়ায় সেখানে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বনের আলামত নিশ্চিত করেছে। সাধারণত মাটির অগভীর স্তরে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘বায়োজেনিক’ গ্যাসের সঙ্গে শুধু পানি পাওয়া যায়। কিন্তু ইনানীতে অগভীর স্তরে নির্গত গ্যাসের সঙ্গে থার্মোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কনডেনসেট মেলায় গভীর ভূস্তরে গ্যাসক্ষেত্রের উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিকুন আরহাম জানান, ভোলার শাহবাজপুরের অগভীর স্তরের বায়োজেনিক গ্যাসের সঙ্গে ইনানীর গ্যাসের স্পষ্ট তফাত রয়েছে। ইনানীতে কনডেনসেটের আলামত মেলায় প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে এখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত রাসায়নিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

২৭ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট সেতুসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আবদুল্লাহর বাড়িতে প্রায় ৮০০ ফুট গভীর নলকূপ খননের সময় এই ঘটনা ঘটে। অবিরাম গ্যাস ও আগুন জ্বলতে থাকায় বর্তমানে এলাকায় বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধজুড়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। সাময়িকভাবে স্থানীয় এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার জানান, ঢাকা থেকে আসা টেকনিক্যাল টিম নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করছে এবং উচ্চচাপের কারণে জোরপূর্বক আগুন নেভানো বিপজ্জনক হওয়ায় আপাতত সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার রাখাই মূল লক্ষ্য।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ইনানীতে নলকূপ খননে মিলল গ্যাস ও কনডেনসেট

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে অনবরত গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটছে। আগুনের তীব্রতা না কমে দিন দিন বাড়তে থাকায় এবং নির্গত গ্যাসের সঙ্গে ‘কনডেনসেট’ বা তরল হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়ায় সেখানে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বনের আলামত নিশ্চিত করেছে। সাধারণত মাটির অগভীর স্তরে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘বায়োজেনিক’ গ্যাসের সঙ্গে শুধু পানি পাওয়া যায়। কিন্তু ইনানীতে অগভীর স্তরে নির্গত গ্যাসের সঙ্গে থার্মোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কনডেনসেট মেলায় গভীর ভূস্তরে গ্যাসক্ষেত্রের উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিকুন আরহাম জানান, ভোলার শাহবাজপুরের অগভীর স্তরের বায়োজেনিক গ্যাসের সঙ্গে ইনানীর গ্যাসের স্পষ্ট তফাত রয়েছে। ইনানীতে কনডেনসেটের আলামত মেলায় প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে এখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত রাসায়নিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

২৭ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট সেতুসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আবদুল্লাহর বাড়িতে প্রায় ৮০০ ফুট গভীর নলকূপ খননের সময় এই ঘটনা ঘটে। অবিরাম গ্যাস ও আগুন জ্বলতে থাকায় বর্তমানে এলাকায় বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধজুড়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। সাময়িকভাবে স্থানীয় এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক জেবুন নাহার জানান, ঢাকা থেকে আসা টেকনিক্যাল টিম নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করছে এবং উচ্চচাপের কারণে জোরপূর্বক আগুন নেভানো বিপজ্জনক হওয়ায় আপাতত সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার রাখাই মূল লক্ষ্য।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত