সংবাদ

এইচএসসি ও সমমানের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষা প্রশাসন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

এইচএসসি ও সমমানের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষা প্রশাসন

  • পুনঃপরীক্ষা ও উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সিদ্ধান্ত

​চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, খাতা মূল্যায়ন কিংবা ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে কোনো অসংগতি বা ত্রুটি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকার চিন্তিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন সম্পন্ন হলেই ফলাফলের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "খাতা দেখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলাফলে কোনো অসংগতি থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। এরপর বোঝা যাবে, এবার ফলাফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।"

তিনি বিগত বছরের পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরও জানান, গতবার পুনর্নিরীক্ষণে অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। শিক্ষকদের বা পরীক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত বলতে পারি, ফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ফলাফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি বোঝা যাবে। এছাড়া দেশের সার্বিক পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পর্যালোচনারও ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

​পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জানান, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর ফেল থেকে পাস এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জনের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, "আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করবো।"

উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাদের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ঠিক যেমন লিখেছে, সেভাবেই যেন তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন ভুল মূল্যায়নের কারণে অনুৎসাহিত না হয়ে পড়ে।

​অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলাফলের প্রতিটি সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সার্বিক পাসের হারে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উত্তরপত্র মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহ ও সঠিকভাবে করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ফলাফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় এনে শিগগিরই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আগামী রবিবার থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

​৩১ অক্টোবর একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত এই ফলাফলে ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৮.৮৩ শতাংশ পাসের হারের তুলনায় ৬.৭১ শতাংশ কম। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যেখানে ছেলেদের সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় কিছুটা বেশি।

তবে সার্বিক পাসের হারের ক্ষেত্রে ছাত্রীরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ হলেও বরিশাল বোর্ডে তা নেমে এসেছে সর্বনিম্নে। এছাড়া সারাদেশে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


এইচএসসি ও সমমানের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষা প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • পুনঃপরীক্ষা ও উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সিদ্ধান্ত

​চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, খাতা মূল্যায়ন কিংবা ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে কোনো অসংগতি বা ত্রুটি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকার চিন্তিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন সম্পন্ন হলেই ফলাফলের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "খাতা দেখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলাফলে কোনো অসংগতি থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। এরপর বোঝা যাবে, এবার ফলাফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।"

তিনি বিগত বছরের পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরও জানান, গতবার পুনর্নিরীক্ষণে অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। শিক্ষকদের বা পরীক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত বলতে পারি, ফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ফলাফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি বোঝা যাবে। এছাড়া দেশের সার্বিক পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পর্যালোচনারও ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

​পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জানান, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর ফেল থেকে পাস এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জনের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, "আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করবো।"

উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাদের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ঠিক যেমন লিখেছে, সেভাবেই যেন তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন ভুল মূল্যায়নের কারণে অনুৎসাহিত না হয়ে পড়ে।

​অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলাফলের প্রতিটি সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সার্বিক পাসের হারে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উত্তরপত্র মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহ ও সঠিকভাবে করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ফলাফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় এনে শিগগিরই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আগামী রবিবার থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

​৩১ অক্টোবর একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত এই ফলাফলে ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৮.৮৩ শতাংশ পাসের হারের তুলনায় ৬.৭১ শতাংশ কম। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যেখানে ছেলেদের সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় কিছুটা বেশি।

তবে সার্বিক পাসের হারের ক্ষেত্রে ছাত্রীরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ হলেও বরিশাল বোর্ডে তা নেমে এসেছে সর্বনিম্নে। এছাড়া সারাদেশে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত