সংবাদ

পদোন্নতি পেলেও কমতে পারে সরকারি কর্মচারীদের আয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

পদোন্নতি পেলেও কমতে পারে সরকারি কর্মচারীদের আয়
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার থেকে তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে না পারায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে এই বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। আপাতত তাদের পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই এখনো নতুন কাঠামোতে নিজেদের বেতন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ও অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ এর কারিগরি জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও এখনো তার সুরাহা হয়নি।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণে মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোয় ১১তম গ্রেডের চেয়ে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বেশি হয়ে যাওয়ার মতো অদ্ভুত অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে কম মূল বেতন পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে মূল বেতন সামান্য বাড়লেও গ্রেড পরিবর্তনের কারণে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মূল বেতন এক হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়ে সামগ্রিক মাসিক আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন যাদের চাকরির বয়স আট বা দশ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মের কারণে একই গ্রেডের জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন সমান হয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি বেতন পাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে আইবাস++ ব্যবস্থার জটিলতা এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতির কারণে বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বেতন নির্ধারণ ও বিল তৈরির এই অনলাইন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


পদোন্নতি পেলেও কমতে পারে সরকারি কর্মচারীদের আয়

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার থেকে তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে না পারায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে এই বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। আপাতত তাদের পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই এখনো নতুন কাঠামোতে নিজেদের বেতন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ও অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++ এর কারিগরি জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও এখনো তার সুরাহা হয়নি।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণে মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোয় ১১তম গ্রেডের চেয়ে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বেশি হয়ে যাওয়ার মতো অদ্ভুত অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে কম মূল বেতন পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে মূল বেতন সামান্য বাড়লেও গ্রেড পরিবর্তনের কারণে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মূল বেতন এক হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়ে সামগ্রিক মাসিক আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন যাদের চাকরির বয়স আট বা দশ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মের কারণে একই গ্রেডের জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তার বেতন সমান হয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি বেতন পাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে আইবাস++ ব্যবস্থার জটিলতা এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতির কারণে বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বেতন নির্ধারণ ও বিল তৈরির এই অনলাইন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত