সংবাদ

পুঁজিবাজারে মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

পুঁজিবাজারে মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে জোরালো দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

দেশে দিন দিন পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বাজারে কাঙ্ক্ষিত লেনদেন ও তারল্য বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যক্তি ও প্রবাসী কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা চেয়েছে সংগঠনটি। শনিবার ডিবিএর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সংগঠনটি জানায়, গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

ডিবিএর পেশ করা প্রস্তাবে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে নতুন আন্তর্জাতিক পুঁজি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাবও জানানো হয়।

বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া রয়েছে। তবে এর বেশি মুনাফা হলেই সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়। এ বিষয়ে ডিবিএ মনে করে, পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হলে বাজারে লেনদেনের হার বহুগুণ বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত মুনাফা বাজারে পুনর্বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। এর মাধ্যমে দেশীয় সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির ইকুইটি অর্থায়নের পথ সহজ হবে।

আয়কর আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি করা যোগ্য লেনদেনের সব ধরনের মূলধনি মুনাফা করমুক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানির স্পনসর, পরিচালক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদ্যমান করব্যবস্থা যথারীতি বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংগঠনটি। সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাব অনেক সহজ হবে। তাই সিসিবিএলের কার্যক্রম ও সক্ষমতা বিচারে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়।

পুঁজিবাজারের সংকট কাটাতে নিজের স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেন ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। বাজারের সার্বিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, "ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


পুঁজিবাজারে মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে জোরালো দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

দেশে দিন দিন পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বাজারে কাঙ্ক্ষিত লেনদেন ও তারল্য বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যক্তি ও প্রবাসী কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা চেয়েছে সংগঠনটি। শনিবার ডিবিএর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সংগঠনটি জানায়, গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

ডিবিএর পেশ করা প্রস্তাবে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে নতুন আন্তর্জাতিক পুঁজি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাবও জানানো হয়।

বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া রয়েছে। তবে এর বেশি মুনাফা হলেই সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়। এ বিষয়ে ডিবিএ মনে করে, পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হলে বাজারে লেনদেনের হার বহুগুণ বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত মুনাফা বাজারে পুনর্বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। এর মাধ্যমে দেশীয় সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির ইকুইটি অর্থায়নের পথ সহজ হবে।

আয়কর আইন সংশোধনের তাগিদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি করা যোগ্য লেনদেনের সব ধরনের মূলধনি মুনাফা করমুক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানির স্পনসর, পরিচালক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদ্যমান করব্যবস্থা যথারীতি বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংগঠনটি। সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাব অনেক সহজ হবে। তাই সিসিবিএলের কার্যক্রম ও সক্ষমতা বিচারে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়।

পুঁজিবাজারের সংকট কাটাতে নিজের স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেন ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। বাজারের সার্বিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, "ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত