সংবাদ

সিলেটে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

সিলেটে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও এবার বড় ধস নেমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে। বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ পয়েন্ট।

ফলাফলের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, ভালো ফল বা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত বছর যেখানে ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৩৯৮ জন।

চার জেলার ফলাফলে বড় ব্যবধান

সিলেট বিভাগের চার জেলার ফলাফল বিশ্লেষণে শিক্ষার মানে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। পাসের হারে সিলেট জেলা এগিয়ে থাকলেও মৌলভীবাজারে এ হার সবচেয়ে কম। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জেও পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৌলভীবাজারে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। চার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের ব্যবধান প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট। এর পাশাপাশি বোর্ডে যেমন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্যও দেখিয়েছে।

ফল বিপর্যয়ের কারণ ও করণীয়

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতে, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, ক্লাসে উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং পড়াশোনায় অনীহাই এই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজল দেব মনে করেন, শিক্ষার মান ফেরাতে হলে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া ইংরেজিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় কড়াকড়ি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফলাফল প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক উদ্বেগ প্রকাশ না করে, পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষা প্রশাসন ও কলেজগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই শোচনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সিলেটে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও এবার বড় ধস নেমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে। বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ পয়েন্ট।

ফলাফলের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, ভালো ফল বা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত বছর যেখানে ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৩৯৮ জন।

চার জেলার ফলাফলে বড় ব্যবধান

সিলেট বিভাগের চার জেলার ফলাফল বিশ্লেষণে শিক্ষার মানে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। পাসের হারে সিলেট জেলা এগিয়ে থাকলেও মৌলভীবাজারে এ হার সবচেয়ে কম। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জেও পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৌলভীবাজারে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। চার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের ব্যবধান প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট। এর পাশাপাশি বোর্ডে যেমন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্যও দেখিয়েছে।

ফল বিপর্যয়ের কারণ ও করণীয়

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতে, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, ক্লাসে উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং পড়াশোনায় অনীহাই এই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজল দেব মনে করেন, শিক্ষার মান ফেরাতে হলে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া ইংরেজিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় কড়াকড়ি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফলাফল প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক উদ্বেগ প্রকাশ না করে, পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষা প্রশাসন ও কলেজগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই শোচনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত