সংবাদ

নেছারাবাদে স্বেচ্ছাশ্রমে পুল সংস্কার, প্রশংসায় ভাসছেন ৩ যুবক


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

নেছারাবাদে স্বেচ্ছাশ্রমে পুল সংস্কার, প্রশংসায় ভাসছেন ৩ যুবক
পিরোজপুরের নেছারাবাদে দীর্ঘদিনের ভাঙা কাঠের পুল স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন ৩ যুবক।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জরাজীর্ণ একটি কাঠের পুল স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন স্থানীয় তিন যুবক। দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মনে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় যুবকদের শারীরিক পরিশ্রম এবং সমাজসেবকদের আর্থিক সহায়তায় পুলটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলটি দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দেবীদাসকাঠি, গুয়ারেখা ও ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম সংযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও সংস্কারের অভাবে পুলটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দুটি ইউনিয়নের ঠিক সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো জনপ্রতিনিধিই পুলটি মেরামতে নজর দেননি বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবসমাজ পুলটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার জন্য তারা গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান ও ব্যবসায়ী সঞ্জয় মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের আর্থিক অনুদান এবং যুবকদের শারীরিক পরিশ্রমে অবশেষে পুলটি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়।


প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন গ্রামেরই তিন তরুণ মো. লিমন শেখ, মো. জালিস মাহমুদ ও পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম শেখ। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম শেখ বলেন, “পুলটি দুটি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে হওয়ায় দীর্ঘদিন কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছিলেন। মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিই। গাজী মো. মিজানুর রহমান ও সঞ্জয় মণ্ডলের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য যুবকদের এমন মহৎ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। তাদের দায়িত্ববোধ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. ইউনুস শেখ স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “বহুদিন ধরে পুলটি ভাঙা থাকায় আমাদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। যুবকদের উদ্যোগে পুলটি ঠিক হওয়ায় এলাকার সবাই খুব খুশি।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নেছারাবাদে স্বেচ্ছাশ্রমে পুল সংস্কার, প্রশংসায় ভাসছেন ৩ যুবক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জরাজীর্ণ একটি কাঠের পুল স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন স্থানীয় তিন যুবক। দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মনে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় যুবকদের শারীরিক পরিশ্রম এবং সমাজসেবকদের আর্থিক সহায়তায় পুলটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলটি দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দেবীদাসকাঠি, গুয়ারেখা ও ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম সংযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও সংস্কারের অভাবে পুলটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দুটি ইউনিয়নের ঠিক সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো জনপ্রতিনিধিই পুলটি মেরামতে নজর দেননি বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবসমাজ পুলটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার জন্য তারা গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান ও ব্যবসায়ী সঞ্জয় মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের আর্থিক অনুদান এবং যুবকদের শারীরিক পরিশ্রমে অবশেষে পুলটি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়।


প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন গ্রামেরই তিন তরুণ মো. লিমন শেখ, মো. জালিস মাহমুদ ও পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম শেখ। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম শেখ বলেন, “পুলটি দুটি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে হওয়ায় দীর্ঘদিন কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছিলেন। মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিই। গাজী মো. মিজানুর রহমান ও সঞ্জয় মণ্ডলের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

গুয়ারেখা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য যুবকদের এমন মহৎ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। তাদের দায়িত্ববোধ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. ইউনুস শেখ স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “বহুদিন ধরে পুলটি ভাঙা থাকায় আমাদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। যুবকদের উদ্যোগে পুলটি ঠিক হওয়ায় এলাকার সবাই খুব খুশি।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত