মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সংঘাত এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
বিশ্বে মোট ব্যবহৃত তেল ও জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলবস্থার প্রভাব সামাল দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিরা নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল ও পন্থা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অনিশ্চয়তার ফলে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ কমানোর উপায় নিয়েও কৌশলগত আলোচনা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির তীব্র চাপ থেকে স্বস্তি দিতে সরকার কীভাবে সুনির্দিষ্ট খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে, সে বিষয়গুলো তিনি বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "বর্তমান সংকট জাতীয় নীতিনির্ধারণে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। তাই দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।"
বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যেকোনো ঝুঁকি কমাতে তিনি জ্বালানির উৎস ও সরবরাহ পথ বহুমুখী করার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেন। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির নিরসনে পাকিস্তানের নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানির বাজারে এসব সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সংঘাত কমানো জরুরি।"
হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চালান নিশ্চিত করায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান অবস্থাকে এক অভূতপূর্ব সংকট অভিহিত করে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, "এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা যৌথভাবে প্রতিহত করা এবং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সংঘাত এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
বিশ্বে মোট ব্যবহৃত তেল ও জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলবস্থার প্রভাব সামাল দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিরা নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল ও পন্থা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অনিশ্চয়তার ফলে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ কমানোর উপায় নিয়েও কৌশলগত আলোচনা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির তীব্র চাপ থেকে স্বস্তি দিতে সরকার কীভাবে সুনির্দিষ্ট খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে, সে বিষয়গুলো তিনি বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "বর্তমান সংকট জাতীয় নীতিনির্ধারণে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। তাই দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।"
বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যেকোনো ঝুঁকি কমাতে তিনি জ্বালানির উৎস ও সরবরাহ পথ বহুমুখী করার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেন। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির নিরসনে পাকিস্তানের নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানির বাজারে এসব সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সংঘাত কমানো জরুরি।"
হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চালান নিশ্চিত করায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান অবস্থাকে এক অভূতপূর্ব সংকট অভিহিত করে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, "এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা যৌথভাবে প্রতিহত করা এবং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন