খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ এবং বিচারকের করা বিভাগীয় মামলার আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। বিচারক সোহেল রানার করা সেই বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর রিটের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন ও ব্যারিস্টার আবু সাদেক আব্দুল্লাহ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। এ আদেশের ফলে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চু গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে জানান, গত ২৩ আগস্ট সকালে বিচারক সোহেল রানা তাকে নিজের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক ক্ষিপ্ত হয়ে তার চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসা নিতে হয় এবং চোখে ব্যান্ডেজ পর্যন্ত করতে হয়েছিল।
তবে গাড়িচালকের এই মারাত্মক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি। তার দাবি, মূলত গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কথা বলতে বাচ্চুকে খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল। সেখানে সামান্য ধমক দিয়ে তাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হলেও মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে গত ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট প্রশাসন স্বউদ্যোগে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
আইনজীবী মো. বাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, যখন হাইকোর্ট এবং মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিগুলো সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তদন্তাধীন রাখছে এবং কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত আসেনি, ঠিক সেই মুহূর্তে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা নিজেই বাদী হয়ে গাড়িচালক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে অভিনব এক বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই মামলায় বিচারক নিজেই বাদী এবং তিনিই আবার বিচারক।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে চালক আলী হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগীয় মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেন এবং মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ এবং বিচারকের করা বিভাগীয় মামলার আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। বিচারক সোহেল রানার করা সেই বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর রিটের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন ও ব্যারিস্টার আবু সাদেক আব্দুল্লাহ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। এ আদেশের ফলে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চু গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে জানান, গত ২৩ আগস্ট সকালে বিচারক সোহেল রানা তাকে নিজের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক ক্ষিপ্ত হয়ে তার চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসা নিতে হয় এবং চোখে ব্যান্ডেজ পর্যন্ত করতে হয়েছিল।
তবে গাড়িচালকের এই মারাত্মক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি। তার দাবি, মূলত গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কথা বলতে বাচ্চুকে খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল। সেখানে সামান্য ধমক দিয়ে তাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হলেও মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে গত ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট প্রশাসন স্বউদ্যোগে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
আইনজীবী মো. বাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, যখন হাইকোর্ট এবং মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিগুলো সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তদন্তাধীন রাখছে এবং কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত আসেনি, ঠিক সেই মুহূর্তে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা নিজেই বাদী হয়ে গাড়িচালক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে অভিনব এক বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই মামলায় বিচারক নিজেই বাদী এবং তিনিই আবার বিচারক।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে চালক আলী হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগীয় মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেন এবং মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন