সংবাদ

অনিবাসীদের জন্য সহজ হলো লভ্যাংশ ও শেয়ার প্রক্রিয়া


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পিএম

অনিবাসীদের জন্য সহজ হলো লভ্যাংশ ও শেয়ার প্রক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ধারাকে আরও বেগবান করতে এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার বা প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর, বকেয়া পরিশোধ এবং লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানোর দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিল প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর ফলে এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের লভ্যাংশ নিজ দেশে স্থানান্তর করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে।

এই বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নির্দেশনার আওতায় অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানি, অনিবাসী বিনিয়োগকারী এবং এই পুরো লেনদেন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে যুক্ত সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট করণীয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাংলাদেশের যেকোনো নিবন্ধিত কোম্পানি অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হারে অগ্রাধিকার শেয়ার খুব সহজেই ইস্যু করতে পারবে। এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে শেয়ার ইস্যু করার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার ঝক্কিতে পড়তে হবে না। তবে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখার স্বার্থে শেয়ার ইস্যু সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা রিটার্ন জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো কোম্পানি যদি তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে ৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হারে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে চায়, তবে সে ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রস্তাবিত লভ্যাংশ হারের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা তুলে ধরে যথাযথ নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন সাপেক্ষেই কেবল তা বাস্তবায়ন করা যাবে। শুধু শেয়ার ইস্যুই নয়, বরং নতুন এই নির্দেশনায় অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে বিদেশে পাঠানো এবং মেয়াদান্তে বা শর্তসাপেক্ষে এসব শেয়ার পরিশোধের জটিল প্রক্রিয়াগুলোও যথেষ্ট সহজ করা হয়েছে। বিশেষ করে, এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক বা আলাদা অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন হবে না, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি সম্পন্ন করা যাবে।

এছাড়াও, বর্তমান সময়ের চাহিদা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের প্রচলিত নিয়মকানুন এবং প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু ও পরবর্তী নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের পুরো প্রক্রিয়াটিকেও নতুন সার্কুলারে অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও করপোরেট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সময়োপযোগী ও উদারীকৃত নীতিমালা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং দেশের পুঁজিবাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


অনিবাসীদের জন্য সহজ হলো লভ্যাংশ ও শেয়ার প্রক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ধারাকে আরও বেগবান করতে এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার বা প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর, বকেয়া পরিশোধ এবং লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানোর দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিল প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর ফলে এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের লভ্যাংশ নিজ দেশে স্থানান্তর করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে।

এই বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নির্দেশনার আওতায় অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানি, অনিবাসী বিনিয়োগকারী এবং এই পুরো লেনদেন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে যুক্ত সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট করণীয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাংলাদেশের যেকোনো নিবন্ধিত কোম্পানি অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হারে অগ্রাধিকার শেয়ার খুব সহজেই ইস্যু করতে পারবে। এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে শেয়ার ইস্যু করার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার ঝক্কিতে পড়তে হবে না। তবে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখার স্বার্থে শেয়ার ইস্যু সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা রিটার্ন জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো কোম্পানি যদি তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে ৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হারে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে চায়, তবে সে ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রস্তাবিত লভ্যাংশ হারের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা তুলে ধরে যথাযথ নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন সাপেক্ষেই কেবল তা বাস্তবায়ন করা যাবে। শুধু শেয়ার ইস্যুই নয়, বরং নতুন এই নির্দেশনায় অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে বিদেশে পাঠানো এবং মেয়াদান্তে বা শর্তসাপেক্ষে এসব শেয়ার পরিশোধের জটিল প্রক্রিয়াগুলোও যথেষ্ট সহজ করা হয়েছে। বিশেষ করে, এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক বা আলাদা অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন হবে না, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি সম্পন্ন করা যাবে।

এছাড়াও, বর্তমান সময়ের চাহিদা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের প্রচলিত নিয়মকানুন এবং প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু ও পরবর্তী নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের পুরো প্রক্রিয়াটিকেও নতুন সার্কুলারে অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও করপোরেট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সময়োপযোগী ও উদারীকৃত নীতিমালা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং দেশের পুঁজিবাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত