সংবাদ

পর্নোগ্রাফি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

পর্নোগ্রাফি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরায় স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য ও স্থানীয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে ২ নম্বর এবং ভুক্তভোগীর সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (মৌসুমি) ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এজহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে তালাক দেন ওই সাবেক চেয়ারম্যান। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই নারীর যোগাযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও ও ছবি আগে থেকেই সংগ্রহে রেখেছিলেন তার সাবেক স্ত্রী। সেই ভিডিও আবদুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।

এর পর গত ২০ অক্টোবর আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও আসামিরা ব্লাকমেইল অব্যাহত রাখেন। পরে গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

বাদী ও সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী জানান, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির উদ্দেশ্যে এই অপরাধ করা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিজিটাল প্রমাণসহ সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার প্রধান ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


পর্নোগ্রাফি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরায় স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য ও স্থানীয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে ২ নম্বর এবং ভুক্তভোগীর সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (মৌসুমি) ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এজহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে তালাক দেন ওই সাবেক চেয়ারম্যান। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই নারীর যোগাযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও ও ছবি আগে থেকেই সংগ্রহে রেখেছিলেন তার সাবেক স্ত্রী। সেই ভিডিও আবদুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।

এর পর গত ২০ অক্টোবর আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও আসামিরা ব্লাকমেইল অব্যাহত রাখেন। পরে গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

বাদী ও সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী জানান, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির উদ্দেশ্যে এই অপরাধ করা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিজিটাল প্রমাণসহ সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার প্রধান ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত