বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও এর সঙ্গে জড়িত। অথচ এই শিল্প সচল রাখার পেছনে যাঁদের শ্রম সবচেয়ে বেশি, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন আজও উপেক্ষিত। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগানো এবং বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।
সরকারের নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার পর পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। কিন্তু একই বাজারে জীবনযাপনের ব্যয় বহন করেও পোশাকশ্রমিকদের আয় কেন অপরিবর্তিত থাকবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। মূল সমস্যা বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং মূল্যস্ফীতি ও আয়বৈষম্য। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও পণ্যের দাম কমেনি। ফলে খাদ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দাবি, তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। একবারে এই ব্যবধান পূরণ করা মালিকপক্ষের জন্য কতটা সম্ভব, তা বিবেচনার বিষয়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি অযৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মালিকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং শিল্পের টেকসই ভবিষ্যৎ—তিনটি বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকার ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণ। পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনাও আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাস্তায় নামার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। তাদের জন্য রেশন, আবাসন ও চিকিৎসার সুযোগও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখতে মালিকপক্ষের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের জীবনমান উন্নত না করে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা আশা করা যায় না। যে শ্রমিকের ঘামে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তার জীবনই যদি অনিশ্চয়তায় ডুবে থাকে, তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাফল্য কতটা অর্থবহ?
এম. সিয়াম

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও এর সঙ্গে জড়িত। অথচ এই শিল্প সচল রাখার পেছনে যাঁদের শ্রম সবচেয়ে বেশি, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন আজও উপেক্ষিত। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগানো এবং বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।
সরকারের নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার পর পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। কিন্তু একই বাজারে জীবনযাপনের ব্যয় বহন করেও পোশাকশ্রমিকদের আয় কেন অপরিবর্তিত থাকবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। মূল সমস্যা বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং মূল্যস্ফীতি ও আয়বৈষম্য। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও পণ্যের দাম কমেনি। ফলে খাদ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দাবি, তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। একবারে এই ব্যবধান পূরণ করা মালিকপক্ষের জন্য কতটা সম্ভব, তা বিবেচনার বিষয়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি অযৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মালিকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং শিল্পের টেকসই ভবিষ্যৎ—তিনটি বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকার ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণ। পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনাও আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাস্তায় নামার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। তাদের জন্য রেশন, আবাসন ও চিকিৎসার সুযোগও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখতে মালিকপক্ষের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের জীবনমান উন্নত না করে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা আশা করা যায় না। যে শ্রমিকের ঘামে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তার জীবনই যদি অনিশ্চয়তায় ডুবে থাকে, তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাফল্য কতটা অর্থবহ?
এম. সিয়াম

আপনার মতামত লিখুন