বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও সরবরাহসংকট স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বিদ্যুৎ দ্বীপের মানুষের শিক্ষা, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এ সমস্যার সমাধান জনস্বার্থে জরুরি।
ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬ টাকা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদেরও প্রতি ইউনিটের জন্য ৫৫ টাকা দিতে হয়। অথচ এত বেশি দাম দিয়েও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। একজন বাসিন্দার দাবি, দিনে সূর্য ওঠার পর মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দামের তুলনায় সেন্ট মার্টিনে বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি। দ্বীপের বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থায় উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেশি হতে পারে। তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ, দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং গ্রাহকেরা কী পরিমাণ সেবা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য তাদের সংসার চালানো কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ঠিকানা। তাই দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, সরেজমিনে অনুসন্ধান করে বিদ্যুতের মূল্য ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হোক। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্বীপের মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মনিরুজ্জামান মাজেদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও সরবরাহসংকট স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বিদ্যুৎ দ্বীপের মানুষের শিক্ষা, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এ সমস্যার সমাধান জনস্বার্থে জরুরি।
ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬ টাকা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদেরও প্রতি ইউনিটের জন্য ৫৫ টাকা দিতে হয়। অথচ এত বেশি দাম দিয়েও নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। একজন বাসিন্দার দাবি, দিনে সূর্য ওঠার পর মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দামের তুলনায় সেন্ট মার্টিনে বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি। দ্বীপের বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থায় উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেশি হতে পারে। তবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ, দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং গ্রাহকেরা কী পরিমাণ সেবা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য তাদের সংসার চালানো কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ঠিকানা। তাই দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, সরেজমিনে অনুসন্ধান করে বিদ্যুতের মূল্য ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হোক। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্বীপের মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মনিরুজ্জামান মাজেদ

আপনার মতামত লিখুন