দূরপাল্লার যাত্রায় আরাম দিতে স্লিপার বাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে অননুমোদিতভাবে বাসের কাঠামো পরিবর্তন, কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি যাত্রীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে অনেক বাসের কাঠামো বিদেশ থেকে আমদানি করা চ্যাসিসের ওপর স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মশালায় দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত কারিগর ছাড়াই বাসের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। একতলা বাসকে অনুমোদন ছাড়া দোতলা বা স্লিপার বাসে রূপান্তর করলে এর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে বাঁকে বাস উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চ্যাসিস কাটা ও পুনরায় ঝালাইয়ের ত্রুটিতে কাঠামো দুর্বল হতে পারে। বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কাও থাকে। জরুরি বহির্গমনব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়ে।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস দুর্ঘটনার ঘটনা এসব ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া মোটরযানের কাঠামো পরিবর্তন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মশালাগুলোতে নিয়মিত তদারকি, দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত কারিগর নিয়োগ এবং বাসের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাসমালিকদেরও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আরামদায়ক ভ্রমণের নামে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা চলবে না। নিরাপদ বাস নির্মাণ ও চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার, পরিবহনমালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
মোহাম্মদ ইয়াছিন
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দূরপাল্লার যাত্রায় আরাম দিতে স্লিপার বাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে অননুমোদিতভাবে বাসের কাঠামো পরিবর্তন, কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি যাত্রীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে অনেক বাসের কাঠামো বিদেশ থেকে আমদানি করা চ্যাসিসের ওপর স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মশালায় দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত কারিগর ছাড়াই বাসের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। একতলা বাসকে অনুমোদন ছাড়া দোতলা বা স্লিপার বাসে রূপান্তর করলে এর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে বাঁকে বাস উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চ্যাসিস কাটা ও পুনরায় ঝালাইয়ের ত্রুটিতে কাঠামো দুর্বল হতে পারে। বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কাও থাকে। জরুরি বহির্গমনব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়ে।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস দুর্ঘটনার ঘটনা এসব ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া মোটরযানের কাঠামো পরিবর্তন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মশালাগুলোতে নিয়মিত তদারকি, দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রশিক্ষিত কারিগর নিয়োগ এবং বাসের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাসমালিকদেরও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আরামদায়ক ভ্রমণের নামে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা চলবে না। নিরাপদ বাস নির্মাণ ও চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার, পরিবহনমালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
মোহাম্মদ ইয়াছিন
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন