শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। অথচ দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে আয়ের হিসাব কষে। মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষার মান, শিক্ষকদের যোগ্যতা, আবাসনের নিরাপত্তা ও নিয়মিত তদারকির বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়। ধর্মীয় বা সাধারণ শিক্ষা—যে ধারারই প্রতিষ্ঠান হোক, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান দায়িত্ব।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, নড়াইল ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাবনার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। তবে একের পর এক অভিযোগ শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুরা দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকে। তাদের অনেকের অভিভাবক আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ভয়, লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে নির্যাতনের ঘটনা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। যৌন নিপীড়ন শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মনে রাখতে হবে, এ সমস্যা শুধু মাদ্রাসার নয়; সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আগে নিবন্ধন, অবকাঠামো যাচাই এবং শিক্ষকদের পরিচয় ও পটভূমি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
অভিভাবকদেরও সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আগে খোঁজখবর নিতে হবে। শিশু যেন ভয় ছাড়াই নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, এমন পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষা একটি আমানত। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। অথচ দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে আয়ের হিসাব কষে। মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষার মান, শিক্ষকদের যোগ্যতা, আবাসনের নিরাপত্তা ও নিয়মিত তদারকির বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়। ধর্মীয় বা সাধারণ শিক্ষা—যে ধারারই প্রতিষ্ঠান হোক, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান দায়িত্ব।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, নড়াইল ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাবনার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। তবে একের পর এক অভিযোগ শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুরা দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকে। তাদের অনেকের অভিভাবক আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ভয়, লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে নির্যাতনের ঘটনা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। যৌন নিপীড়ন শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মনে রাখতে হবে, এ সমস্যা শুধু মাদ্রাসার নয়; সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আগে নিবন্ধন, অবকাঠামো যাচাই এবং শিক্ষকদের পরিচয় ও পটভূমি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
অভিভাবকদেরও সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আগে খোঁজখবর নিতে হবে। শিশু যেন ভয় ছাড়াই নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, এমন পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষা একটি আমানত। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম

আপনার মতামত লিখুন