সাতক্ষীরার শামীম হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে, দেশে মব সন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না কেন? ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই কি কাউকে পিটিয়ে হত্যার অধিকার পেয়ে যায় জনতা? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ ধরনের সহিংসতা ঘটেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
পুলিশের দায়িত্ব শুধু ঘটনার পর মামলা নেওয়া নয়, সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বিপন্ন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। শামীমকে উদ্ধারের পরও যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কোথায় অবহেলা হয়েছে, কার কী দায়িত্ব ছিল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
মাজারে হামলা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনির মতো ঘটনা সমাজে বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর গবেষণায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করতে হবে। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের; জনতার নয়। কাউকে শাস্তি দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে মানুষকে উসকানিতে সাড়া না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
মব সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পুলিশের জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং উগ্রতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এ বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।
সাজিউর রহমান ফাহাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরার শামীম হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে, দেশে মব সন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না কেন? ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই কি কাউকে পিটিয়ে হত্যার অধিকার পেয়ে যায় জনতা? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ ধরনের সহিংসতা ঘটেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
পুলিশের দায়িত্ব শুধু ঘটনার পর মামলা নেওয়া নয়, সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বিপন্ন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। শামীমকে উদ্ধারের পরও যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কোথায় অবহেলা হয়েছে, কার কী দায়িত্ব ছিল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
মাজারে হামলা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনির মতো ঘটনা সমাজে বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর গবেষণায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করতে হবে। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের; জনতার নয়। কাউকে শাস্তি দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে মানুষকে উসকানিতে সাড়া না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
মব সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পুলিশের জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং উগ্রতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এ বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।
সাজিউর রহমান ফাহাদ

আপনার মতামত লিখুন