সংবাদ

কিশোর অপরাধ রুখতে পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা জরুরি


প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

কিশোর অপরাধ রুখতে পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা জরুরি

দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক গ্রহণ, নারী ও শিশুদের হয়রানি, ভাঙচুর এবং মারামারির মতো ঘটনায় এসব দলের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অপহরণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। এতে জনজীবনে উদ্বেগ বাড়ছে।

কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। অসৎ বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, মাদক ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা, পারিবারিক নজরদারির অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানির বিস্তার তাদের অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতেও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন।

আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে ছাত্র ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে মারামারি, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা বাড়ায়। গুজব বা আবেগের বশে নির্দোষ মানুষও এর শিকার হতে পারেন। কোনো অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধে জড়িত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের সংশোধন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করতে হবে।

তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে। তাদের একাকিত্ব ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকেও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে।

কিশোরেরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা শুধু পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের অপরাধী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


কিশোর অপরাধ রুখতে পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক গ্রহণ, নারী ও শিশুদের হয়রানি, ভাঙচুর এবং মারামারির মতো ঘটনায় এসব দলের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অপহরণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। এতে জনজীবনে উদ্বেগ বাড়ছে।

কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। অসৎ বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, মাদক ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা, পারিবারিক নজরদারির অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানির বিস্তার তাদের অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতেও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন।

আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে ছাত্র ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে মারামারি, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা বাড়ায়। গুজব বা আবেগের বশে নির্দোষ মানুষও এর শিকার হতে পারেন। কোনো অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধে জড়িত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের সংশোধন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করতে হবে।

তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে। তাদের একাকিত্ব ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকেও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে।

কিশোরেরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা শুধু পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের অপরাধী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত