সংবাদ

ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে মারধরের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে মারধরের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের ভেতরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের দপ্তরের ভেতরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঘটা এই হামলার ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

আহত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এ সময় আমি জানতে চাই, এসব চিঠি কারা পাঠাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এর একটা সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কথাটি বলার পর তারেক নামের এক কর্মকর্তা আমাকে বলেন, 'আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়।'

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ও সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ড. জিয়াউল হক আমার দিকে এগিয়ে এসে প্রথমে ঘুষি মারেন। পরে ফোরামের সভাপতি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান কক্ষের ভেতরে থাকা ফুলের টব দিয়ে আমাকে আঘাত করেন। এ সময় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম ও লাবু মিলে আমাকে বেদম মারধর করেন। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা।’

এদিকে রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলার সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাকে নিষেধ করা হয়। পরে তিনি তাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এলে তারা কেবল বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)  বেলা সোয়া ১১টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে মারধরের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের দপ্তরের ভেতরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঘটা এই হামলার ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

আহত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এ সময় আমি জানতে চাই, এসব চিঠি কারা পাঠাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এর একটা সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কথাটি বলার পর তারেক নামের এক কর্মকর্তা আমাকে বলেন, 'আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়।'

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ও সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ড. জিয়াউল হক আমার দিকে এগিয়ে এসে প্রথমে ঘুষি মারেন। পরে ফোরামের সভাপতি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান কক্ষের ভেতরে থাকা ফুলের টব দিয়ে আমাকে আঘাত করেন। এ সময় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম ও লাবু মিলে আমাকে বেদম মারধর করেন। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা।’

এদিকে রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলার সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাকে নিষেধ করা হয়। পরে তিনি তাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এলে তারা কেবল বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)  বেলা সোয়া ১১টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত