সংবাদ

পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
নায়িকা পরীমনি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় বুধবার সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। এ সময় বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমনির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি।

২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে আরেক আসামি বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

পরবর্তীতে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২০২৪ সালের ২৫ জুন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

মামলায় নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং ক্লাবের ভেতরে বসে মদ পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাদী ও তার সহযোগী ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এরপর একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

নাসির রাজি না হলে পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে বাদানুবাদের জেরে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসিরের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। 

বাদীর অভিযোগ, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় বুধবার সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। এ সময় বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমনির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি।

২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে আরেক আসামি বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

পরবর্তীতে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২০২৪ সালের ২৫ জুন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

মামলায় নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং ক্লাবের ভেতরে বসে মদ পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাদী ও তার সহযোগী ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এরপর একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

নাসির রাজি না হলে পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে বাদানুবাদের জেরে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসিরের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। 

বাদীর অভিযোগ, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত