রংপুর আদালত চত্বরে অবস্থিত ১০ তলা বিশিষ্ট মেট্রোপলিটান ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনটি এখন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য এক প্রকার ভোগান্তির নাম। আটজন করে বহনক্ষম মাত্র দুটি লিফট দিয়ে ১০ তলা পর্যন্ত যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও লিফটে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি বেয়েই আদালতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বারবার আবেদন নিবেদন করা হলেও আরও লিফট সংযোজনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের চরম ভোগান্তি
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনটিতে চরম বিশৃঙ্খলা ও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বদরগঞ্জ থেকে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আদালতে এসেছিলেন ৮৫ বছর বয়সী মমতাজ উদ্দিন। লাঠিতে ভর দিয়ে এসেও লিফটে জায়গা না পাওয়ায় তাকে বাধ্য হয়ে সিঁড়ি বেয়ে ৫ তলায় উঠে হাজিরা দিতে হয়। হাজিরা শেষে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লিফটে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আবার ৫ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়েই নিচে নামতে হয় তাকে।
মমতাজ উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সাড়ে ১০টায় এসে ১১টায় শুনানি ছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও লিফটে জায়গা মেলেনি। বাধ্য হয়ে অনেক কষ্টে ৫ তলায় উঠলাম, বয়স ও অসুস্থতার কারণে সারা শরীর কাঁপছিল।’
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেমা বেগম। তার বিচারক বসেন ৭ তলায়। কোনো রকমে একবার উপরে উঠতে পারলেও শুনানি শেষে পায়ে হেঁটে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে অনেক কষ্টে তাকে নিচে নামতে হয়।
৩০টি আদালতের জন্য মাত্র দুটি লিফট
সরেজমিনে জানা যায়, ১০ তলার এই ভবনটিতে রংপুরের ৮ উপজেলার বিভিন্ন আদালত ছাড়াও মেট্রোপলিটান আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, বিদ্যুৎ আদালত ও সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ অন্তত ৩০টি আদালত রয়েছে। প্রতিদিন এখানে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার বিচারপ্রার্থী নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। অথচ যাতায়াতের ভরসা বলতে মাত্র দুটি লিফট। এর মধ্যে একটি আইনজীবীদের জন্য এবং অপরটি বিচারপ্রার্থীদের। তার ওপর মাঝেমধ্যেই লিফট দুটি বিকল হয়ে পড়ে। লিফটে উঠতে হলে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ করতে হয়। জায়গা না পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না।
আইনজীবীদেরও একই দুর্ভোগ
শুধু বিচারপ্রার্থীরাই নন, একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আদালতে কর্মরত আইনজীবীরাও। সময়মতো এজলাসে পৌঁছাতে প্রায়ই তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বায়েজীদ ওসমানী জানান, তার বিদ্যুৎ আদালতে ১০ তলায় মামলা ছিল। লিফটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও জায়গা পাননি। এদিকে বিচারকাসনে বসে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে হেঁটেই তাকে উপরে উঠতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। ১০ তলায় সুস্থ মানুষও এভাবে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন না।’
নারী আইনজীবী আফসানা শারমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০ তলা এই ভবনে ৩০ জনের বেশি বিচারক বিচারকাজ পরিচালনা করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও ভবনটি নির্মাণের সময় অপরিকল্পিত নকশা করা হয়েছে। যেখানে অন্তত ছয়টি বড় আকারের লিফট দরকার, সেখানে মাত্র দুটি ছোট লিফট দিয়ে এত মানুষের চলাচল অসম্ভব। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।’
সার্বিক বিষয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন বলেন, ‘আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের এই ১০ তলা ভবনে যাতায়াত করা এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুটি ছোট লিফটের একটি প্রায় সময় অচল থাকে। পুরো বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
রংপুর আদালত চত্বরে অবস্থিত ১০ তলা বিশিষ্ট মেট্রোপলিটান ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনটি এখন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য এক প্রকার ভোগান্তির নাম। আটজন করে বহনক্ষম মাত্র দুটি লিফট দিয়ে ১০ তলা পর্যন্ত যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও লিফটে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি বেয়েই আদালতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বারবার আবেদন নিবেদন করা হলেও আরও লিফট সংযোজনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের চরম ভোগান্তি
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনটিতে চরম বিশৃঙ্খলা ও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বদরগঞ্জ থেকে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আদালতে এসেছিলেন ৮৫ বছর বয়সী মমতাজ উদ্দিন। লাঠিতে ভর দিয়ে এসেও লিফটে জায়গা না পাওয়ায় তাকে বাধ্য হয়ে সিঁড়ি বেয়ে ৫ তলায় উঠে হাজিরা দিতে হয়। হাজিরা শেষে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লিফটে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আবার ৫ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়েই নিচে নামতে হয় তাকে।
মমতাজ উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সাড়ে ১০টায় এসে ১১টায় শুনানি ছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও লিফটে জায়গা মেলেনি। বাধ্য হয়ে অনেক কষ্টে ৫ তলায় উঠলাম, বয়স ও অসুস্থতার কারণে সারা শরীর কাঁপছিল।’
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেমা বেগম। তার বিচারক বসেন ৭ তলায়। কোনো রকমে একবার উপরে উঠতে পারলেও শুনানি শেষে পায়ে হেঁটে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে অনেক কষ্টে তাকে নিচে নামতে হয়।
৩০টি আদালতের জন্য মাত্র দুটি লিফট
সরেজমিনে জানা যায়, ১০ তলার এই ভবনটিতে রংপুরের ৮ উপজেলার বিভিন্ন আদালত ছাড়াও মেট্রোপলিটান আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, বিদ্যুৎ আদালত ও সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ অন্তত ৩০টি আদালত রয়েছে। প্রতিদিন এখানে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার বিচারপ্রার্থী নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। অথচ যাতায়াতের ভরসা বলতে মাত্র দুটি লিফট। এর মধ্যে একটি আইনজীবীদের জন্য এবং অপরটি বিচারপ্রার্থীদের। তার ওপর মাঝেমধ্যেই লিফট দুটি বিকল হয়ে পড়ে। লিফটে উঠতে হলে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ করতে হয়। জায়গা না পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না।
আইনজীবীদেরও একই দুর্ভোগ
শুধু বিচারপ্রার্থীরাই নন, একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আদালতে কর্মরত আইনজীবীরাও। সময়মতো এজলাসে পৌঁছাতে প্রায়ই তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বায়েজীদ ওসমানী জানান, তার বিদ্যুৎ আদালতে ১০ তলায় মামলা ছিল। লিফটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও জায়গা পাননি। এদিকে বিচারকাসনে বসে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে হেঁটেই তাকে উপরে উঠতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। ১০ তলায় সুস্থ মানুষও এভাবে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন না।’
নারী আইনজীবী আফসানা শারমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০ তলা এই ভবনে ৩০ জনের বেশি বিচারক বিচারকাজ পরিচালনা করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও ভবনটি নির্মাণের সময় অপরিকল্পিত নকশা করা হয়েছে। যেখানে অন্তত ছয়টি বড় আকারের লিফট দরকার, সেখানে মাত্র দুটি ছোট লিফট দিয়ে এত মানুষের চলাচল অসম্ভব। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।’
সার্বিক বিষয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন বলেন, ‘আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের এই ১০ তলা ভবনে যাতায়াত করা এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুটি ছোট লিফটের একটি প্রায় সময় অচল থাকে। পুরো বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন