সংবাদ

রংপুরে কমিটি-কার্যালয় নেই এনসিপির, তৃণমূলে হতাশা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

রংপুরে কমিটি-কার্যালয় নেই এনসিপির, তৃণমূলে হতাশা
ছবি : সংগৃহীত

রংপুর মহানগরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কার্যক্রম নেই। নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি, নেই দলীয় কার্যালয়ও। এসব কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগীয় নগরী রংপুরে কোনো দলীয় কার্যালয় গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত দলীয় কর্মসূচি মাঝেমধ্যে পালন করা হলেও তার ঠিকানা হয় প্রেসক্লাব চত্বর, নয়তো জুলাই মঞ্চ এলাকা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এনসিপি সমর্থক জানান, বাতিল হওয়া কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নামই নগরীর সাধারণ মানুষ জানে না।

দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতাসহ নানা অভিযোগে সম্প্রতি রংপুর মহানগর এনসিপির কমিটি বাতিল করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে কমিটিবিহীন অবস্থায় রয়েছে রংপুর। এতে দলীয় কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মহানগর নেতাদের গ্রুপিং, নিজেদের বড় নেতা হিসেবে প্রচার করে প্রভাব দেখানো এবং মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি এখন হাতে গোনা কয়েক নেতা সর্বস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক বাছিত আলী বলেন, এনসিপি একসময় জাসদের মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। কারণ, জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি রংপুরে কখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেনি। যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছিল, তাদের সাধারণ মানুষের কাছে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। বেশির ভাগ মানুষ তাদের নাম পর্যন্ত জানে না।

অধ্যাপক বাছিত আলী আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে রংপুর অনেক সমৃদ্ধ। এখানে গত দুই বছরে জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা যায়নি। নানা কারণে দলটির কার্যক্রম গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনো সময় আছে; সৎ ও নিবেদিত নেতা-কর্মীদের স্থান দিয়ে দলকে দাঁড় করানো গেলে রংপুরে এনসিপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরেও রংপুর মহানগরের ছয়টি থানায় কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি দায়িত্বে থাকা নেতারা। এনসিপি কর্মী সাগর জানান, মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ছয়টি থানার অবস্থা আরও খারাপ। দলকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজাতে হবে।

বাতিল হওয়া মহানগর এনসিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও দলীয় কার্যালয় স্থাপন করতে না পারাসহ নানা কারণে সমস্যা হয়েছে। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন মহানগর কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক মহানগরে দলের কার্যক্রমে স্থবিরতার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কমিটির মেয়াদ ছয় মাস ছিল বলে এটি বাতিল করা হয়েছে, দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুবদলের রংপুর মহানগরীর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, রংপুরে এনসিপির কোনো কার্যক্রম নেই, তাদের অস্তিত্বই নেই—যা আছে শুধু কাগজে-কলমে। দলের বিরুদ্ধে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগও করেন।

সার্বিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দাবি, এবার যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের নিয়ে মহানগর নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেখছেন বলেও তারা আশাবাদী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


রংপুরে কমিটি-কার্যালয় নেই এনসিপির, তৃণমূলে হতাশা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর মহানগরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কার্যক্রম নেই। নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি, নেই দলীয় কার্যালয়ও। এসব কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগীয় নগরী রংপুরে কোনো দলীয় কার্যালয় গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত দলীয় কর্মসূচি মাঝেমধ্যে পালন করা হলেও তার ঠিকানা হয় প্রেসক্লাব চত্বর, নয়তো জুলাই মঞ্চ এলাকা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এনসিপি সমর্থক জানান, বাতিল হওয়া কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নামই নগরীর সাধারণ মানুষ জানে না।

দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতাসহ নানা অভিযোগে সম্প্রতি রংপুর মহানগর এনসিপির কমিটি বাতিল করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে কমিটিবিহীন অবস্থায় রয়েছে রংপুর। এতে দলীয় কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মহানগর নেতাদের গ্রুপিং, নিজেদের বড় নেতা হিসেবে প্রচার করে প্রভাব দেখানো এবং মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি এখন হাতে গোনা কয়েক নেতা সর্বস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক বাছিত আলী বলেন, এনসিপি একসময় জাসদের মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। কারণ, জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি রংপুরে কখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেনি। যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছিল, তাদের সাধারণ মানুষের কাছে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। বেশির ভাগ মানুষ তাদের নাম পর্যন্ত জানে না।

অধ্যাপক বাছিত আলী আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে রংপুর অনেক সমৃদ্ধ। এখানে গত দুই বছরে জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা যায়নি। নানা কারণে দলটির কার্যক্রম গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনো সময় আছে; সৎ ও নিবেদিত নেতা-কর্মীদের স্থান দিয়ে দলকে দাঁড় করানো গেলে রংপুরে এনসিপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরেও রংপুর মহানগরের ছয়টি থানায় কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি দায়িত্বে থাকা নেতারা। এনসিপি কর্মী সাগর জানান, মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ছয়টি থানার অবস্থা আরও খারাপ। দলকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজাতে হবে।

বাতিল হওয়া মহানগর এনসিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও দলীয় কার্যালয় স্থাপন করতে না পারাসহ নানা কারণে সমস্যা হয়েছে। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন মহানগর কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক মহানগরে দলের কার্যক্রমে স্থবিরতার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কমিটির মেয়াদ ছয় মাস ছিল বলে এটি বাতিল করা হয়েছে, দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুবদলের রংপুর মহানগরীর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, রংপুরে এনসিপির কোনো কার্যক্রম নেই, তাদের অস্তিত্বই নেই—যা আছে শুধু কাগজে-কলমে। দলের বিরুদ্ধে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগও করেন।

সার্বিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দাবি, এবার যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের নিয়ে মহানগর নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেখছেন বলেও তারা আশাবাদী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত