সংবাদ

দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের দ্বিগুণ ঢল, ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের দ্বিগুণ ঢল, ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য
প্রথম দিন একটি জাহাজ চললেও দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন

চলতি মৌসুমে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি জাহাজ। প্রথম দিন একটি জাহাজ চললেও দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজগুলো দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল ‘এমভি বারো আউলিয়া’।

সকালে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ‘এমভি কর্ণফুলী’ ও ‘এমভি টেকনাফ’ নামের নতুন দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজ পরিচালনাকারী সূত্র জানায়, শুক্রবার এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক যাত্রা করেন। দুপুরের মধ্যেই তাদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর গণমাধ্যমকে বলেন, “আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। তবে এ বছর প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পাওয়ায় প্রয়োজনে পরবর্তীতে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।”

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণ চালুর কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযানের ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণজনিত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, শুক্রবার সকালে নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের সচেষ্ট ও তৎপর দেখা গেছে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের সম্পদ। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে ঘুরতে যাওয়া প্রত্যেক পর্যটকেরই সচেতন ভূমিকা রাখা উচিত।”

তবে টিকিটের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকার উত্তরা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভ্রমণপিপাসু সাধারণ মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়েই টিকিটের দাম নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসা প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বীপের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো যাবে না। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরোপিত এসব বিধিনিষেধের যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের দ্বিগুণ ঢল, ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চলতি মৌসুমে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি জাহাজ। প্রথম দিন একটি জাহাজ চললেও দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজগুলো দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল ‘এমভি বারো আউলিয়া’।

সকালে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ‘এমভি কর্ণফুলী’ ও ‘এমভি টেকনাফ’ নামের নতুন দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজ পরিচালনাকারী সূত্র জানায়, শুক্রবার এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক যাত্রা করেন। দুপুরের মধ্যেই তাদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর গণমাধ্যমকে বলেন, “আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। তবে এ বছর প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পাওয়ায় প্রয়োজনে পরবর্তীতে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।”

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণ চালুর কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযানের ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণজনিত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, শুক্রবার সকালে নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের সচেষ্ট ও তৎপর দেখা গেছে।

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের সম্পদ। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে ঘুরতে যাওয়া প্রত্যেক পর্যটকেরই সচেতন ভূমিকা রাখা উচিত।”

তবে টিকিটের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকার উত্তরা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভ্রমণপিপাসু সাধারণ মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়েই টিকিটের দাম নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসা প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বীপের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো যাবে না। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরোপিত এসব বিধিনিষেধের যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত