রামলীলা ময়দানের সমাবেশে অনুপস্থিত থাকায় এবার কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহাসমাবেশে যারা যোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে যুব কংগ্রেসের পদাধিকারীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশে ৬০ জন যুব কংগ্রেস পদাধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গুজরাটে সাসপেন্ড হয়েছেন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন জেলা সভাপতি এবং রাজ্যস্তরের সচিব পদমর্যাদার নেতারা। অন্যদিকে, কংগ্রেসশাসিত হিমাচল প্রদেশে ১৩ জন এবং হরিয়ানায় ১০ জন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই চার রাজ্যেই অন্তত ১৩২ জন যুব কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও কোনও সাসপেনশনের খবর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেস সদর দফতরের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুব কংগ্রেসের পর এবার প্রদেশ কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তর, মহিলা কংগ্রেস এবং ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। ১ নভেম্বরের সমাবেশে কোন রাজ্যের কোন স্তরের নেতা অনুপস্থিত ছিলেন, তা চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে বলে খবর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং বিভিন্ন সংগঠনের জাতীয় নেতৃত্বকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরের অনুপস্থিত পদাধিকারীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কঠোর অবস্থানের পিছনে রয়েছে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানোর বার্তাও। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এনএসইউআই-এর পরাজয়ের পর সংগঠনের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতি নয়, নির্বাচনী ফলাফল এবং সাংগঠনিক পারফরম্যান্স—দুই ক্ষেত্রেই এবার জবাবদিহি চাইছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে যে শৃঙ্খলার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে, তা ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দলের আন্দোলন ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দিতেই কি এই কঠোর অবস্থান? নাকি আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বকে সরিয়ে সংগঠনে নতুন করে রদবদলের প্রস্তুতি? এখন নজর প্রদেশ কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস এবং এনএসইউআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই সাংগঠনিক অভিযান আগামী দিনে কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের রাজনীতিতেও কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে অনুপস্থিত থাকায় এবার কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহাসমাবেশে যারা যোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে যুব কংগ্রেসের পদাধিকারীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশে ৬০ জন যুব কংগ্রেস পদাধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গুজরাটে সাসপেন্ড হয়েছেন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন জেলা সভাপতি এবং রাজ্যস্তরের সচিব পদমর্যাদার নেতারা। অন্যদিকে, কংগ্রেসশাসিত হিমাচল প্রদেশে ১৩ জন এবং হরিয়ানায় ১০ জন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই চার রাজ্যেই অন্তত ১৩২ জন যুব কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও কোনও সাসপেনশনের খবর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেস সদর দফতরের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুব কংগ্রেসের পর এবার প্রদেশ কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তর, মহিলা কংগ্রেস এবং ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। ১ নভেম্বরের সমাবেশে কোন রাজ্যের কোন স্তরের নেতা অনুপস্থিত ছিলেন, তা চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে বলে খবর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং বিভিন্ন সংগঠনের জাতীয় নেতৃত্বকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরের অনুপস্থিত পদাধিকারীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কঠোর অবস্থানের পিছনে রয়েছে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানোর বার্তাও। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এনএসইউআই-এর পরাজয়ের পর সংগঠনের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতি নয়, নির্বাচনী ফলাফল এবং সাংগঠনিক পারফরম্যান্স—দুই ক্ষেত্রেই এবার জবাবদিহি চাইছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে যে শৃঙ্খলার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে, তা ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দলের আন্দোলন ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দিতেই কি এই কঠোর অবস্থান? নাকি আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বকে সরিয়ে সংগঠনে নতুন করে রদবদলের প্রস্তুতি? এখন নজর প্রদেশ কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস এবং এনএসইউআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই সাংগঠনিক অভিযান আগামী দিনে কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের রাজনীতিতেও কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

আপনার মতামত লিখুন