ই-টিআইএন নম্বর বা অ্যাকাউন্ট থাকলেও অনেকেরই মনে থাকে না যে গত বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা জমার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন আগে আয়কর জমা দিতে শুরু করেছেন, তাদের জন্য পুরনো কাগজপত্র হারিয়ে গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এমন পরিস্থিতিতে করদাতাদের আর কোনো আয়কর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিসিয়াল ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে খুব সহজেই ঘরে বসে আগের বছরগুলোর রিটার্ন জমার রেকর্ড যাচাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডাউনলোড করা সম্ভব।
অনলাইনে নিজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রিটার্ন জমা যাচাই করতে হলে প্রথমেই এনবিআরের নির্দিষ্ট ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে (www.etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। যাদের আগেই ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে, তারা সরাসরি নিজেদের টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করতে পারবেন। আর নতুনদের ক্ষেত্রে প্রথমে ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর বাঁ পাশের ‘Tax Record’ অংশ থেকে ‘History’ সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট করবর্ষ যেমন: ২০২৪-২৫ বা ২০২৫-২৬ নির্বাচন করে ‘View’ অপশনে ক্লিক করলেই ওই বছরের রিটার্ন জমার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে চলে আসবে।
ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট ছাড়াও শুধুমাত্র টিআইএন নম্বর দিয়ে দ্রুততম সময়ে আগের কোনো করবর্ষের রিটার্ন বাকি রয়েছে কি না তা জানা সম্ভব। এজন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিং পেজে থাকা ‘Return Verify/PSR’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট স্থানে টিআইএন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় করবর্ষ লিখে ভেরিফাই করলেই রিটার্ন দাখিলের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যায়।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের কাগজ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কেবল রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করাই শেষ কাজ নয়, বরং এর প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটের ‘Tax Record’ মেনুর অধীনে থাকা ‘Acknowledgement’ অংশে গিয়ে যেকোনো সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখা ও ডাউনলোড করা যায়। একই জায়গা থেকে রিটার্নের মূল কপি এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে করদাতার নাম, টিআইএন এবং নির্দিষ্ট করবর্ষের বিস্তারিত উল্লেখ থাকায় পরবর্তীতে যেকোনো আর্থিক সেবায় ব্যবহারের জন্য এই নথিটি ডিজিটাল ফাইল আকারে কম্পিউটারে বা মোবাইলে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই অনলাইনে রিটার্ন পূরণ করার পর সেটি প্রিন্ট নিয়ে ম্যানুয়ালি আয়কর অফিসে জমা দেন, কিন্তু পরবর্তীতে ই-রিটার্ন পোর্টালে আর সেই সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে পান না। এই বিষয়ে এনবিআরের নির্দেশনা বলছে, অনলাইনে ই-রিটার্ন তৈরির পর তা যদি ডিজিটাল মাধ্যমে চূড়ান্ত সাবমিট না করা হয়, তবে পোর্টালের সিস্টেমে তার কোনো রেকর্ড থাকে না। ঠিক একইভাবে, সম্পূর্ণ পেপার কার্টিজে এনবিআরের সার্কেল অফিসে কাগজের ফর্মে রিটার্ন জমা দিলে তা ই-পোর্টালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শন নাও করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে সরেজমিনে যোগাযোগ করে জমার রেজিস্টার বা পূর্বের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখিয়ে তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
এনবিআরের পক্ষ থেকে রিটার্ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আয়বর্ষ এবং করবর্ষ দুটি ভিন্ন বিষয় হওয়ায় তথ্য অনুসন্ধানের সময় সঠিক করবর্ষ বেছে নিতে হবে, তা না হলে ভুল তথ্য আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, কেবল একটি ই-টিআইএন সনদ থাকা মানেই যে প্রতি বছর নিয়ম করে রিটার্ন জমা শেষ হয়েছে; এমনটি ভাবা ভুল, কারণ টিআইএন নেওয়া এবং রিটার্ন সাবমিট করা দুটি পৃথক বিষয়।
পরিশেষে, ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি বা ব্যাংকিং জটিলতা এড়াতে আয়কর সংক্রান্ত চালান, দাখিল রিটার্নের কপি এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সবসময় সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছে এনবিআর।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ই-টিআইএন নম্বর বা অ্যাকাউন্ট থাকলেও অনেকেরই মনে থাকে না যে গত বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা জমার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন আগে আয়কর জমা দিতে শুরু করেছেন, তাদের জন্য পুরনো কাগজপত্র হারিয়ে গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এমন পরিস্থিতিতে করদাতাদের আর কোনো আয়কর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিসিয়াল ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে খুব সহজেই ঘরে বসে আগের বছরগুলোর রিটার্ন জমার রেকর্ড যাচাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডাউনলোড করা সম্ভব।
অনলাইনে নিজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রিটার্ন জমা যাচাই করতে হলে প্রথমেই এনবিআরের নির্দিষ্ট ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে (www.etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। যাদের আগেই ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে, তারা সরাসরি নিজেদের টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করতে পারবেন। আর নতুনদের ক্ষেত্রে প্রথমে ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর বাঁ পাশের ‘Tax Record’ অংশ থেকে ‘History’ সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট করবর্ষ যেমন: ২০২৪-২৫ বা ২০২৫-২৬ নির্বাচন করে ‘View’ অপশনে ক্লিক করলেই ওই বছরের রিটার্ন জমার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে চলে আসবে।
ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট ছাড়াও শুধুমাত্র টিআইএন নম্বর দিয়ে দ্রুততম সময়ে আগের কোনো করবর্ষের রিটার্ন বাকি রয়েছে কি না তা জানা সম্ভব। এজন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিং পেজে থাকা ‘Return Verify/PSR’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট স্থানে টিআইএন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় করবর্ষ লিখে ভেরিফাই করলেই রিটার্ন দাখিলের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যায়।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের কাগজ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কেবল রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করাই শেষ কাজ নয়, বরং এর প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটের ‘Tax Record’ মেনুর অধীনে থাকা ‘Acknowledgement’ অংশে গিয়ে যেকোনো সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখা ও ডাউনলোড করা যায়। একই জায়গা থেকে রিটার্নের মূল কপি এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে করদাতার নাম, টিআইএন এবং নির্দিষ্ট করবর্ষের বিস্তারিত উল্লেখ থাকায় পরবর্তীতে যেকোনো আর্থিক সেবায় ব্যবহারের জন্য এই নথিটি ডিজিটাল ফাইল আকারে কম্পিউটারে বা মোবাইলে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই অনলাইনে রিটার্ন পূরণ করার পর সেটি প্রিন্ট নিয়ে ম্যানুয়ালি আয়কর অফিসে জমা দেন, কিন্তু পরবর্তীতে ই-রিটার্ন পোর্টালে আর সেই সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে পান না। এই বিষয়ে এনবিআরের নির্দেশনা বলছে, অনলাইনে ই-রিটার্ন তৈরির পর তা যদি ডিজিটাল মাধ্যমে চূড়ান্ত সাবমিট না করা হয়, তবে পোর্টালের সিস্টেমে তার কোনো রেকর্ড থাকে না। ঠিক একইভাবে, সম্পূর্ণ পেপার কার্টিজে এনবিআরের সার্কেল অফিসে কাগজের ফর্মে রিটার্ন জমা দিলে তা ই-পোর্টালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শন নাও করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে সরেজমিনে যোগাযোগ করে জমার রেজিস্টার বা পূর্বের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখিয়ে তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
এনবিআরের পক্ষ থেকে রিটার্ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আয়বর্ষ এবং করবর্ষ দুটি ভিন্ন বিষয় হওয়ায় তথ্য অনুসন্ধানের সময় সঠিক করবর্ষ বেছে নিতে হবে, তা না হলে ভুল তথ্য আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, কেবল একটি ই-টিআইএন সনদ থাকা মানেই যে প্রতি বছর নিয়ম করে রিটার্ন জমা শেষ হয়েছে; এমনটি ভাবা ভুল, কারণ টিআইএন নেওয়া এবং রিটার্ন সাবমিট করা দুটি পৃথক বিষয়।
পরিশেষে, ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি বা ব্যাংকিং জটিলতা এড়াতে আয়কর সংক্রান্ত চালান, দাখিল রিটার্নের কপি এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সবসময় সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছে এনবিআর।

আপনার মতামত লিখুন