সংবাদ

কর রিটার্ন: জেনে নিন এনবিআরের আসল নিয়ম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

কর রিটার্ন: জেনে নিন এনবিআরের আসল নিয়ম
ছ‌বি: প্রতীকী (এআই)

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কর প্রদান কার্যক্রম চলার পাশাপাশি করদাতাদের মধ্যে নানা আইনি বাধ্যবাধকতা ও জরিমানার বিধান নিয়ে আলোচনা চলছে।

নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে নানা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

​রিটার্ন জমা না দেওয়ার পরিণতির বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রেও করদাতার পূর্ববর্তী কর নির্ধারণের ইতিহাস অনুযায়ী জরিমানার সীমা ও হিসাব আলাদা হতে পারে।”

​বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার গুঞ্জন বা আশঙ্কা প্রসঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, “আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা থাকতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের মতো পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া মানতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “তাই আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। করদাতার পরিস্থিতি, আইনগত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।”

​বাড়তি কর ও করছাড়ের সুবিধা সম্পর্কে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার বাইরেও আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য কর রেয়াত বা করছাড়ের সুবিধা সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত কর পরিশোধের দায়ও তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত করের হার, করছাড়ের সীমা এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন বিধান কার্যকর হবে, তা করদাতার ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ​বর্তমান করব্যবস্থায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট করবর্ষে যাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ থাকতে পারে।

​সবশেষে করদাতাদের পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিটার্ন দিতে দেরি হয়ে গেলে বা কোনো কারণে জমা দেওয়া সম্ভব না হলে, সংশ্লিষ্ট কর অফিস কিংবা এনবিআরের নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের করদায় ও রিটার্ন দাখিলের নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


কর রিটার্ন: জেনে নিন এনবিআরের আসল নিয়ম

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কর প্রদান কার্যক্রম চলার পাশাপাশি করদাতাদের মধ্যে নানা আইনি বাধ্যবাধকতা ও জরিমানার বিধান নিয়ে আলোচনা চলছে।

নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে নানা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

​রিটার্ন জমা না দেওয়ার পরিণতির বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রেও করদাতার পূর্ববর্তী কর নির্ধারণের ইতিহাস অনুযায়ী জরিমানার সীমা ও হিসাব আলাদা হতে পারে।”

​বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার গুঞ্জন বা আশঙ্কা প্রসঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, “আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা থাকতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের মতো পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া মানতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “তাই আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। করদাতার পরিস্থিতি, আইনগত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।”

​বাড়তি কর ও করছাড়ের সুবিধা সম্পর্কে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার বাইরেও আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য কর রেয়াত বা করছাড়ের সুবিধা সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত কর পরিশোধের দায়ও তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত করের হার, করছাড়ের সীমা এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন বিধান কার্যকর হবে, তা করদাতার ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ​বর্তমান করব্যবস্থায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট করবর্ষে যাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ থাকতে পারে।

​সবশেষে করদাতাদের পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিটার্ন দিতে দেরি হয়ে গেলে বা কোনো কারণে জমা দেওয়া সম্ভব না হলে, সংশ্লিষ্ট কর অফিস কিংবা এনবিআরের নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের করদায় ও রিটার্ন দাখিলের নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত