সংবাদ

রোজার ১০ পণ্যে এলসি মার্জিন শিথিল, দাম কি কমবে?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

রোজার ১০ পণ্যে এলসি মার্জিন শিথিল, দাম কি কমবে?
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১০টি খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু মার্জিন শিথিল করলেই বাজারে দাম কমবে না; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদর, সরবরাহ পরিস্থিতি ও আমদানি খরচের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (৮ নভেম্বর) সব তফসিলি ব্যাংককে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় এসব পণ্য আমদানি সহজ করতে হবে।

মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাল, গম বা আটা, পেঁয়াজ, ডাল, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুরের এলসির ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নগদ মার্জিনের হার ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এসব পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এলসি দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গত বছরও রমজানের আগে অনুরূপ সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

ওই সময়ের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু এলসি মার্জিন শিথিল করলেই দাম কমেনি। ২০২৬ সালের মার্চে চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান মাসে কিছু পণ্যের দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছিল এবং সবজির দামও কিছুটা চড়া ছিল।

তবে আমদানি বাড়লে ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকে—এটা সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পাওয়া।

এ বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্যে দেখা যায়, রমজানের আগেই ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং এলসি খোলার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এর মধ্যে ছোলার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৮২ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১২ হাজার টন। খেজুরের আমদানিও ৪ হাজার টন থেকে বেড়ে ১১ হাজার টনে পৌঁছেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চিনির দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ছোলার দাম রমজানের প্রায় তিন মাস আগেই বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলসি মার্জিন শিথিল হলে আমদানিকারকদের কম টাকা আগাম জমা রাখতে হবে, ফলে আমদানি সহজ হবে। এতে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম বাড়ছে, আর ডলারের বিপরীতে টাকার মানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে শুধু মার্জিন শিথিলের ওপর ভরসা না করে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাজার তদারকির দিকেও নজর রাখতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে এবং ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


রোজার ১০ পণ্যে এলসি মার্জিন শিথিল, দাম কি কমবে?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১০টি খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু মার্জিন শিথিল করলেই বাজারে দাম কমবে না; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদর, সরবরাহ পরিস্থিতি ও আমদানি খরচের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (৮ নভেম্বর) সব তফসিলি ব্যাংককে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় এসব পণ্য আমদানি সহজ করতে হবে।

মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাল, গম বা আটা, পেঁয়াজ, ডাল, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুরের এলসির ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নগদ মার্জিনের হার ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এসব পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এলসি দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গত বছরও রমজানের আগে অনুরূপ সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

ওই সময়ের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু এলসি মার্জিন শিথিল করলেই দাম কমেনি। ২০২৬ সালের মার্চে চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান মাসে কিছু পণ্যের দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছিল এবং সবজির দামও কিছুটা চড়া ছিল।

তবে আমদানি বাড়লে ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকে—এটা সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পাওয়া।

এ বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্যে দেখা যায়, রমজানের আগেই ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং এলসি খোলার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এর মধ্যে ছোলার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৮২ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১২ হাজার টন। খেজুরের আমদানিও ৪ হাজার টন থেকে বেড়ে ১১ হাজার টনে পৌঁছেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চিনির দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ছোলার দাম রমজানের প্রায় তিন মাস আগেই বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলসি মার্জিন শিথিল হলে আমদানিকারকদের কম টাকা আগাম জমা রাখতে হবে, ফলে আমদানি সহজ হবে। এতে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম বাড়ছে, আর ডলারের বিপরীতে টাকার মানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে শুধু মার্জিন শিথিলের ওপর ভরসা না করে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাজার তদারকির দিকেও নজর রাখতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে এবং ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত