বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রের সত্যতা দ্রুত ও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে ‘ভিজিবল ডিজিটাল সিল’ (ভিডিএস) ব্যবহারের প্রস্তাব এনেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল)।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাংক বিবরণী, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যাচাই করা সম্ভব।
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত আরভিএলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই প্রযুক্তির সুবিধা ও প্রয়োগ পদ্ধতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
সমাবেশে ড. রুডিগার লোটজ বলেন, "খুব অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি যুক্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদনই বাড়তি সতর্কতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এতে বিপুল সময় ও শ্রম অপচয় হয়। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি নথি যাচাই এবং ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সময় অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।"
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারা মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জমা দেওয়া বিভিন্ন নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশগামীরাও অহেতুক বাড়তি যাচাই-বাছাই ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
ভিডিএস মূলত ডিজিটাল স্বাক্ষরসংবলিত একটি বিশেষ দ্বিমাত্রিক কোড, যা যেকোনো কাগজের নথি কিংবা পিডিএফ ফাইলের সাথে যুক্ত রাখা যায়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নথিটি মূল কোন প্রতিষ্ঠান ইস্যু করেছে, এতে পরবর্তীতে কোনো তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃতি করা হয়েছে কি না এবং নথিটি আদৌ বৈধ কি না; তা মুহূর্তেই নিশ্চিত হওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করার জন্য ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আলাদাভাবে ই-মেইল পাঠানো বা টেলিফোন যোগাযোগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
আইসিএও-এর ভিজিবল ডিজিটাল সিল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে আরভিএল। তারা জানায়, বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এবং সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুযায়ী এই প্রযুক্তির পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন: মেডিকেল সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিমান টিকেট ও বিবাহ সনদ সত্যায়িত করার কাজেও এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটানোর কাজ চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ বলেন, "বিদেশে বাংলাদেশি নথিপত্রের হারানো ভাবমূর্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নথি সত্যায়নসংক্রান্ত সব ধরনের জটিলতা দূর করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল) হলো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান দিপন গ্রুপ এবং জার্মানির সুপরিচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের একটি যৌথ উদ্যোগ। এটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজের (সিসিএ) অধীনে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্টিফাইং অথরিটি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রের সত্যতা দ্রুত ও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে ‘ভিজিবল ডিজিটাল সিল’ (ভিডিএস) ব্যবহারের প্রস্তাব এনেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল)।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাংক বিবরণী, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যাচাই করা সম্ভব।
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত আরভিএলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই প্রযুক্তির সুবিধা ও প্রয়োগ পদ্ধতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
সমাবেশে ড. রুডিগার লোটজ বলেন, "খুব অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি যুক্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদনই বাড়তি সতর্কতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এতে বিপুল সময় ও শ্রম অপচয় হয়। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি নথি যাচাই এবং ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সময় অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।"
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারা মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জমা দেওয়া বিভিন্ন নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশগামীরাও অহেতুক বাড়তি যাচাই-বাছাই ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
ভিডিএস মূলত ডিজিটাল স্বাক্ষরসংবলিত একটি বিশেষ দ্বিমাত্রিক কোড, যা যেকোনো কাগজের নথি কিংবা পিডিএফ ফাইলের সাথে যুক্ত রাখা যায়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নথিটি মূল কোন প্রতিষ্ঠান ইস্যু করেছে, এতে পরবর্তীতে কোনো তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃতি করা হয়েছে কি না এবং নথিটি আদৌ বৈধ কি না; তা মুহূর্তেই নিশ্চিত হওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করার জন্য ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আলাদাভাবে ই-মেইল পাঠানো বা টেলিফোন যোগাযোগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
আইসিএও-এর ভিজিবল ডিজিটাল সিল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে আরভিএল। তারা জানায়, বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এবং সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুযায়ী এই প্রযুক্তির পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন: মেডিকেল সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিমান টিকেট ও বিবাহ সনদ সত্যায়িত করার কাজেও এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটানোর কাজ চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ বলেন, "বিদেশে বাংলাদেশি নথিপত্রের হারানো ভাবমূর্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নথি সত্যায়নসংক্রান্ত সব ধরনের জটিলতা দূর করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল) হলো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান দিপন গ্রুপ এবং জার্মানির সুপরিচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের একটি যৌথ উদ্যোগ। এটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজের (সিসিএ) অধীনে অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্টিফাইং অথরিটি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন