সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ও নূরুল ইসলামের মুক্তি দাবি, যা ঘটেছিল টঙ্গীতে


আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ও নূরুল ইসলামের মুক্তি দাবি, যা ঘটেছিল টঙ্গীতে
টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার সময় কারাবন্দী নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অনুসারীদের বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দুই দশক ধরে কারাবন্দী বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে বিক্ষোভ করেছেন তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকানোর খবর নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা।

২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার ঘটনায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয় এবং ওই বছরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটিতে হাইকোর্ট ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ রায়ে সাজাপ্রাপ্ত নয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের উদ্বোধনে যোগ দিতে টঙ্গী হয়ে টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) স্টেশন রোড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে শাহনূর ইসলাম রনির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে গাড়িবহর ঘিরে ধরেন এবং তার বাবার মুক্তি দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে রাস্তা পরিষ্কার করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত রাস্তা ফাঁকা করে দিচ্ছেন। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আটকানো হয়েছে’ মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হলে মিশ্র প্রতিক্রায় দেখা যায়।

নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আটকানো হয়নি। আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করেছি যে আমার বাবা দীর্ঘ ২০ বছর বিনাদোষে কারাগারে আছেন। আমরা তার মুক্তি চাই।’

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, সেখানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। তবে পরিবারের লোকজন নূরুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘গাড়ি আটকানোর খবর সত্য নয়। উৎসুক জনতা দু’পাশে ছিল এবং সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গাড়ি আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম রনি সংসদ অধিবেশনে থাকায় এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ও নূরুল ইসলামের মুক্তি দাবি, যা ঘটেছিল টঙ্গীতে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দুই দশক ধরে কারাবন্দী বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে বিক্ষোভ করেছেন তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকানোর খবর নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা।

২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার ঘটনায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয় এবং ওই বছরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটিতে হাইকোর্ট ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ রায়ে সাজাপ্রাপ্ত নয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের উদ্বোধনে যোগ দিতে টঙ্গী হয়ে টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) স্টেশন রোড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে শাহনূর ইসলাম রনির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে গাড়িবহর ঘিরে ধরেন এবং তার বাবার মুক্তি দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে রাস্তা পরিষ্কার করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত রাস্তা ফাঁকা করে দিচ্ছেন। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আটকানো হয়েছে’ মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হলে মিশ্র প্রতিক্রায় দেখা যায়।

নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি আটকানো হয়নি। আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করেছি যে আমার বাবা দীর্ঘ ২০ বছর বিনাদোষে কারাগারে আছেন। আমরা তার মুক্তি চাই।’

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, সেখানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। তবে পরিবারের লোকজন নূরুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘গাড়ি আটকানোর খবর সত্য নয়। উৎসুক জনতা দু’পাশে ছিল এবং সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গাড়ি আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম রনি সংসদ অধিবেশনে থাকায় এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত