সংবাদ

বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে চাই সতর্কতা


প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে চাই সতর্কতা

দেশের ছয় জেলায় একদিনে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় সবাই কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষ, যারা জীবিকার টানে মাঠে ছিলেন। সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। বাকিরা মারা গেছেন ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে জুন বজ্রপাত বেশি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রায় দেড়শো মানুষ মারা যান। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে হাওর এলাকায়। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন বেশি।

বজ্রপাত আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সতর্ক হলে এতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কোন মাসে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি, কোন এলাকায় বিপদ বেশি সেই তথ্য আবহাওয়া বিভাগের কাছে আছে। সতর্কতার নিয়মকানুনও জানা। এখন জরুরি হচ্ছে, বজ্রপাত প্রতিরোধে এই জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো।

বজ্রপাতের সময় কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি কমে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়া, উঁচু গাছ বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি না যাওয়া, কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া, রাবারের জুতা পরা প্রভৃতি সতর্কতা অবলম্বন করলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকার কৃষক ও জেলেদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

নেপাল বজ্রপাতজনিত হতাহত কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। সাফল্যও পেয়েছে দেশটি। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। আবহাওয়া সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। হাওর এলাকায় সুরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এতে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে চাই সতর্কতা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের ছয় জেলায় একদিনে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় সবাই কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষ, যারা জীবিকার টানে মাঠে ছিলেন। সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। বাকিরা মারা গেছেন ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে জুন বজ্রপাত বেশি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রায় দেড়শো মানুষ মারা যান। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে হাওর এলাকায়। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন বেশি।

বজ্রপাত আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সতর্ক হলে এতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কোন মাসে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি, কোন এলাকায় বিপদ বেশি সেই তথ্য আবহাওয়া বিভাগের কাছে আছে। সতর্কতার নিয়মকানুনও জানা। এখন জরুরি হচ্ছে, বজ্রপাত প্রতিরোধে এই জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো।

বজ্রপাতের সময় কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি কমে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়া, উঁচু গাছ বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি না যাওয়া, কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া, রাবারের জুতা পরা প্রভৃতি সতর্কতা অবলম্বন করলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকার কৃষক ও জেলেদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

নেপাল বজ্রপাতজনিত হতাহত কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। সাফল্যও পেয়েছে দেশটি। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। আবহাওয়া সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। হাওর এলাকায় সুরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এতে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত