দেশে বর্তমানে চলমান হাম পরিস্থিতি এবং শিশু মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার
সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে এক
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাম
বর্তমানে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে,
তা নিয়ন্ত্রণে আসতে কিছুটা সময়
লাগবে। গত ৫ এপ্রিল
থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা
দেওয়ার সাথে সাথেই শিশুদের
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
তৈরি হয় না, এর
জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক
উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে তিনি
স্পষ্ট জানান।
সংবাদ
সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর
রহমান দেশের একটি বড় অংশের
শিশুর টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়ার বিষয়টি
সামনে আনেন। তিনি একে আগের
একটি ব্যর্থতার ফলাফল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "দেশের
একটি অংশের শিশু টিকার আওতার
বাইরে ছিলো, যা আগের একটি
ব্যর্থতার ফল। এরপরও শিশুদের
এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়
না।"
তিনি
জানান, হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে সীমিত সম্পদের কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, "সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকায়, বিশেষ করে যখন একই
ধরনের সেবা, যেমন আইসিইউ অনেক
রোগীর প্রয়োজন হয়, তখন পরিস্থিতি
জটিল হয়ে ওঠে। তবুও
সরকার পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"
স্বাস্থ্য
খাতের ব্যর্থতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে উপদেষ্টা কঠোর অবস্থানের কথা
জানান। বিমান দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,
"প্রত্যেকটা নেগেটিভ ঘটনা আমরা সিরিয়াসলি
ক্ষতিয়ে দেখি। একটা এয়ারপ্লেন ক্র্যাশ
হলে তার কারণ খুঁজে
বের করার চেষ্টা হয়,
উদ্দেশ্য থাকে পরবর্তী ফ্লাইট
যেন আরও নিরাপদ হয়।
এই বিষয়টাও আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে
দেখছি।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
একটা মন্তব্য কেউ কেউ আলোচনা
করেছেন, সমালোচনা করতেও পারেন কেউ। কিন্তু আমার
মনে হয় তার অনুভূতি
বুঝতে পারি যে এতোগুলো
শিশু মারা যাচ্ছে, তিনি
এটা সহ্য করতে পারেননি।
এটা পারা যায় না।
তাই আমরা অবশ্যই এগুলো
প্রত্যেকটা ক্ষতিয়ে দেখবো।"
উপদেষ্টা
ডা. জাহেদ উর রহমান দৃঢ়ভাবে
বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগে হামের
মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু কোনোভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এমন অনেক রোগ
আছে যেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব, ফলে
এসব রোগে কারও মৃত্যুকে
মেনে নেওয়া যায় না। কিছু
রোগ হঠাৎ করে ধরা
পড়তে পারে, যেমন ক্যানসার, যা
আগে থেকে জানা যায়
না। তবে হামের মতো
রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায়
এ ধরনের রোগে মৃত্যু অত্যন্ত
দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এ
বিষয়ে দায় এড়ানো যাবে
না।
সরকার
বর্তমানে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায়
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে
জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন,
টিকাদান কার্যক্রমে যারা ব্যর্থ হয়েছে
তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায়
আনা হবে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশে বর্তমানে চলমান হাম পরিস্থিতি এবং শিশু মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার
সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে এক
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাম
বর্তমানে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে,
তা নিয়ন্ত্রণে আসতে কিছুটা সময়
লাগবে। গত ৫ এপ্রিল
থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা
দেওয়ার সাথে সাথেই শিশুদের
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
তৈরি হয় না, এর
জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক
উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে তিনি
স্পষ্ট জানান।
সংবাদ
সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর
রহমান দেশের একটি বড় অংশের
শিশুর টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়ার বিষয়টি
সামনে আনেন। তিনি একে আগের
একটি ব্যর্থতার ফলাফল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "দেশের
একটি অংশের শিশু টিকার আওতার
বাইরে ছিলো, যা আগের একটি
ব্যর্থতার ফল। এরপরও শিশুদের
এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়
না।"
তিনি
জানান, হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে সীমিত সম্পদের কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, "সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকায়, বিশেষ করে যখন একই
ধরনের সেবা, যেমন আইসিইউ অনেক
রোগীর প্রয়োজন হয়, তখন পরিস্থিতি
জটিল হয়ে ওঠে। তবুও
সরকার পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"
স্বাস্থ্য
খাতের ব্যর্থতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে উপদেষ্টা কঠোর অবস্থানের কথা
জানান। বিমান দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,
"প্রত্যেকটা নেগেটিভ ঘটনা আমরা সিরিয়াসলি
ক্ষতিয়ে দেখি। একটা এয়ারপ্লেন ক্র্যাশ
হলে তার কারণ খুঁজে
বের করার চেষ্টা হয়,
উদ্দেশ্য থাকে পরবর্তী ফ্লাইট
যেন আরও নিরাপদ হয়।
এই বিষয়টাও আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে
দেখছি।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
একটা মন্তব্য কেউ কেউ আলোচনা
করেছেন, সমালোচনা করতেও পারেন কেউ। কিন্তু আমার
মনে হয় তার অনুভূতি
বুঝতে পারি যে এতোগুলো
শিশু মারা যাচ্ছে, তিনি
এটা সহ্য করতে পারেননি।
এটা পারা যায় না।
তাই আমরা অবশ্যই এগুলো
প্রত্যেকটা ক্ষতিয়ে দেখবো।"
উপদেষ্টা
ডা. জাহেদ উর রহমান দৃঢ়ভাবে
বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগে হামের
মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু কোনোভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এমন অনেক রোগ
আছে যেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব, ফলে
এসব রোগে কারও মৃত্যুকে
মেনে নেওয়া যায় না। কিছু
রোগ হঠাৎ করে ধরা
পড়তে পারে, যেমন ক্যানসার, যা
আগে থেকে জানা যায়
না। তবে হামের মতো
রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায়
এ ধরনের রোগে মৃত্যু অত্যন্ত
দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এ
বিষয়ে দায় এড়ানো যাবে
না।
সরকার
বর্তমানে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায়
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে
জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন,
টিকাদান কার্যক্রমে যারা ব্যর্থ হয়েছে
তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায়
আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন