সংবাদ

২১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে বিবিসি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

২১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে বিবিসি

যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাগশিপ সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা বিবিসি ২১ হাজার ৫০০ জন কর্মীকে ছাঁটায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) লন্ডনে বিবিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অল-স্টাফ বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ব্রিটিশ 

আগামী ১৮ মে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক পদে আসছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং ইএমইএ বিজনেস গ্রুপের কর্ণধার ম্যাথিউ জন ব্রিটিন। ম্যাট ব্রিটিন আসার এক মাস আগেই কর্মী ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা দিলো বিবিসি।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা এবং ট্রান্স-জেন্ডার লোকজনের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রুটিপূর্ণ কাভারেজ দেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন টিম ডেভি। তারপর গত ২ এপ্রিল বিবিসি ছেড়ে চলে যান তিনি। ডেভির বিদায়ের পর বিবিসির অন্তবর্তী মহাপরিচালকের পদে আছেন রদ্রি তালফান ডেভিস। বুধবারের অল-স্টাফ বৈঠকের সভাপতি হিসেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন তিনিই।

এদিকে, ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর বিবিসির প্রত্যেক কর্মীকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছেন তালফান ডেভিস। সেখানে তিনি বলেছেন, “আপনারা ইতোমধ্যে জানেন যে বিবিসি বর্তমানে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

“একদম সহজভাবে বলতে গেলে, আমাদের ব্যয় এবং আয়ের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন কারণেই এটা ঘটছে : প্রোডাকশন বাবদ ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে; আমাদের লাইসেন্স ফি এবং বাণিজ্যিক আয় চাপের মধ্যে আছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থাও টালমাটাল।”

“বর্তমানে আমাদের বার্ষিক ব্যয় ৫০০ কোটি পাউন্ড । এই অর্থ থেকে আগামী ২ বছর পর্যন্ত আমাদের কমপক্ষে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে, যার সিংহভাগই ব্যয় হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে।”

“ফলে, অবধারিতভাবেই কর্মীর সংখ্যা হ্রাস করতে হচ্ছে আমাদের। আমি জানি যে এই পদক্ষেপ আমাদের সবার মধ্যে সত্যিকারের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, কিন্তু যে চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা আছি— সে সম্পর্কে আমরা কর্মীদের খোলাখুলিভাবে আমরা জানাতে চেয়েছিলাম।”

যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার সংবাদিক এবং বিনোদন-কমিউনিকেশন-থিয়েটার কর্মীদের ইউনিয়ন বেকটু’র প্রধান নেতা ফিলিপ্পা চাইল্ডস দ্যা গার্ডিয়ানকে বলেন, “এই মাত্রার কর্মীছাঁটাই সবার জন্য বিপর্জয় বয়ে আনবে। যেসব কর্মী ছাঁটাই হচ্ছেন— তারা তো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেনই, উপরন্তু বিবিসির সার্বিক নিউজ অপারেশনে এই ছাঁটায়ের প্রভাব পড়বে। বিবিসি আমাদের জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং সরকারের উচিত এই সংবাদমাধ্যমে বরাদ্দ আরও বাড়ানো।”

গত ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ছাঁটাইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো। ওই মাসে বিবিসি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল, কোম্পানি তার বাজেট থেকে ৬০ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা) সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। বিবিসির তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছিলেন, এই অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটায়ের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে কোম্পানি।

এর আগে ২০১১ সালে একবার এমন বিপুল কর্মী ছাঁটাই হয়েছিল। তারপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত এত বড় আকারে ছাঁটাই বিবিসিতে হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


২১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে বিবিসি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাগশিপ সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা বিবিসি ২১ হাজার ৫০০ জন কর্মীকে ছাঁটায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) লন্ডনে বিবিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অল-স্টাফ বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ব্রিটিশ 

আগামী ১৮ মে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক পদে আসছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং ইএমইএ বিজনেস গ্রুপের কর্ণধার ম্যাথিউ জন ব্রিটিন। ম্যাট ব্রিটিন আসার এক মাস আগেই কর্মী ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা দিলো বিবিসি।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা এবং ট্রান্স-জেন্ডার লোকজনের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রুটিপূর্ণ কাভারেজ দেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন টিম ডেভি। তারপর গত ২ এপ্রিল বিবিসি ছেড়ে চলে যান তিনি। ডেভির বিদায়ের পর বিবিসির অন্তবর্তী মহাপরিচালকের পদে আছেন রদ্রি তালফান ডেভিস। বুধবারের অল-স্টাফ বৈঠকের সভাপতি হিসেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন তিনিই।

এদিকে, ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর বিবিসির প্রত্যেক কর্মীকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছেন তালফান ডেভিস। সেখানে তিনি বলেছেন, “আপনারা ইতোমধ্যে জানেন যে বিবিসি বর্তমানে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

“একদম সহজভাবে বলতে গেলে, আমাদের ব্যয় এবং আয়ের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন কারণেই এটা ঘটছে : প্রোডাকশন বাবদ ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে; আমাদের লাইসেন্স ফি এবং বাণিজ্যিক আয় চাপের মধ্যে আছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থাও টালমাটাল।”

“বর্তমানে আমাদের বার্ষিক ব্যয় ৫০০ কোটি পাউন্ড । এই অর্থ থেকে আগামী ২ বছর পর্যন্ত আমাদের কমপক্ষে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে, যার সিংহভাগই ব্যয় হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে।”

“ফলে, অবধারিতভাবেই কর্মীর সংখ্যা হ্রাস করতে হচ্ছে আমাদের। আমি জানি যে এই পদক্ষেপ আমাদের সবার মধ্যে সত্যিকারের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, কিন্তু যে চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা আছি— সে সম্পর্কে আমরা কর্মীদের খোলাখুলিভাবে আমরা জানাতে চেয়েছিলাম।”

যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার সংবাদিক এবং বিনোদন-কমিউনিকেশন-থিয়েটার কর্মীদের ইউনিয়ন বেকটু’র প্রধান নেতা ফিলিপ্পা চাইল্ডস দ্যা গার্ডিয়ানকে বলেন, “এই মাত্রার কর্মীছাঁটাই সবার জন্য বিপর্জয় বয়ে আনবে। যেসব কর্মী ছাঁটাই হচ্ছেন— তারা তো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেনই, উপরন্তু বিবিসির সার্বিক নিউজ অপারেশনে এই ছাঁটায়ের প্রভাব পড়বে। বিবিসি আমাদের জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং সরকারের উচিত এই সংবাদমাধ্যমে বরাদ্দ আরও বাড়ানো।”

গত ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ছাঁটাইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো। ওই মাসে বিবিসি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল, কোম্পানি তার বাজেট থেকে ৬০ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা) সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। বিবিসির তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছিলেন, এই অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটায়ের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে কোম্পানি।

এর আগে ২০১১ সালে একবার এমন বিপুল কর্মী ছাঁটাই হয়েছিল। তারপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত এত বড় আকারে ছাঁটাই বিবিসিতে হয়নি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত