নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা বা জমানো মজুত অন্য দেশে পাঠানোর কোনো প্রতিশ্রুতি তারা কাউকে দেয়নি। এই বিষয়টিকে ইরান তাদের ‘কৌশলগত রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, একটি চুক্তির আওতায় ইরান তাদের
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। শুক্রবার এক পোস্টে তিনি
লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধুলো’
(নিউক্লিয়ার ডাস্ট) নিয়ে নেবে।”
ট্রাম্পের এই
দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
ইসমাইল বাঘাই। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে
ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি হস্তান্তর করা হবে না।”
ইরানের জাতীয়
নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে
জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম
সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো
প্রশ্নই আসে না। তেহরান এই প্রস্তাবগুলো ‘সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। তাদের
মতে, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের অংশ এবং এখানে কোনো আপস করা
হবে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু
শক্তি সংস্থার (IAEA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০
শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণত
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম
প্রয়োজন হয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এই
কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
সোমবার পাকিস্তানে
হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ইরানের এই অনড় অবস্থান নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি
করেছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে অর্থ ছাড়ের প্রলোভন
ও বন্দর অবরোধের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের পারমাণবিক মজুতকে ‘পবিত্র’ আখ্যা দিয়ে হস্তান্তরে
অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা বা জমানো মজুত অন্য দেশে পাঠানোর কোনো প্রতিশ্রুতি তারা কাউকে দেয়নি। এই বিষয়টিকে ইরান তাদের ‘কৌশলগত রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, একটি চুক্তির আওতায় ইরান তাদের
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। শুক্রবার এক পোস্টে তিনি
লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধুলো’
(নিউক্লিয়ার ডাস্ট) নিয়ে নেবে।”
ট্রাম্পের এই
দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
ইসমাইল বাঘাই। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে
ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি হস্তান্তর করা হবে না।”
ইরানের জাতীয়
নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে
জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম
সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা বা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো
প্রশ্নই আসে না। তেহরান এই প্রস্তাবগুলো ‘সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। তাদের
মতে, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের অংশ এবং এখানে কোনো আপস করা
হবে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু
শক্তি সংস্থার (IAEA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০
শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণত
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম
প্রয়োজন হয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এই
কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
সোমবার পাকিস্তানে
হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ইরানের এই অনড় অবস্থান নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি
করেছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে অর্থ ছাড়ের প্রলোভন
ও বন্দর অবরোধের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের পারমাণবিক মজুতকে ‘পবিত্র’ আখ্যা দিয়ে হস্তান্তরে
অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন