সংবাদ

অং সান সু চির সাজা কমালো মিয়ানমারের সামরিক জান্তা


প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

অং সান সু চির সাজা কমালো মিয়ানমারের সামরিক জান্তা

মিয়ানমারের কারারুদ্ধ গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কিছুটা কমিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বন্দি থাকা সু চিসহ চার হাজারেরও বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সু চির আইনজীবীর বরাতে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

নোবেল বিজয়ী ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি উস্কানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। আইনজীবীর তথ্যমতে, তার সাজার মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। তবে তিনি বাকি সাজা কারাগারে নাকি গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাবেন, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। সু চি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করে আসছেন

মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সু চির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং তার সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন

সু চির সাজা কমানো এবং উইন মিন্টের মুক্তির খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র

  • জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অং সান সু চিসহ নির্বিচারে আটক সবার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি মিয়ানমারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং সহিংসতার অবসান চেয়েছেন
  • যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উইন মিন্টের মুক্তিকে স্বাগত জানালেও অং সান সু চি ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তার পথ সুগম করার তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন

২০২১ সালে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন, যাকে বিশ্বজুড়ে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


অং সান সু চির সাজা কমালো মিয়ানমারের সামরিক জান্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের কারারুদ্ধ গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কিছুটা কমিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বন্দি থাকা সু চিসহ চার হাজারেরও বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সু চির আইনজীবীর বরাতে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

নোবেল বিজয়ী ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি উস্কানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। আইনজীবীর তথ্যমতে, তার সাজার মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। তবে তিনি বাকি সাজা কারাগারে নাকি গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাবেন, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। সু চি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করে আসছেন

মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সু চির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং তার সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন

সু চির সাজা কমানো এবং উইন মিন্টের মুক্তির খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র

  • জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অং সান সু চিসহ নির্বিচারে আটক সবার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি মিয়ানমারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং সহিংসতার অবসান চেয়েছেন
  • যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উইন মিন্টের মুক্তিকে স্বাগত জানালেও অং সান সু চি ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তার পথ সুগম করার তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন

২০২১ সালে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন, যাকে বিশ্বজুড়ে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত