সংবাদ

ভর্তুকির 'চাপ কমাতে' বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব


ফয়েজ আহমেদ তুষার
ফয়েজ আহমেদ তুষার
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

ভর্তুকির 'চাপ কমাতে' বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

  • অনুমোদন হলে ইউনিটপ্রতি বাড়তে পারে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা
  • এতে '৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা' পর্যন্ত ভর্তুকি 'কমে আসবে'
  • ‘প্রকৃত উৎপাদন খরচ’ নিয়ে প্রশ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক  জ্বালানি খাতের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। তবে বিক্রয় মূল্য না বাড়াতে ভর্তুকি বাড়ছে। এখন অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ সামলাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আবাসিকে (খুচরা পর্যায়ে) ব্যবহারভেদে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে, ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমে আসবে।

শুধু প্রান্তিকে যারা খুবই কম বিদ্যুৎ ব্যবহার (লাইফ লাইন ইউজার বা মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) করেন, তেমন গ্রাহকদের জন্য আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের।

মন্ত্রিসভা কমিটি

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা উঠলেও এখনই দাম বাড়ানো হবে না বলে ঘোষণা আসে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে  আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যুতের দাম ‘সমন্বয় করতে’ একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকছেন।

এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৯ এপ্রিল জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট সমাধানে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে প্রস্তাব প্রদানের জন্য এ কমিটি করা হয়েছে। মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে কমিটি।’

প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সামাল দিতে হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাইকারিতে বিকল্প প্রস্তাব

বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করেছে- এর প্রথমটিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ইউনিটের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট হবে ৭ টাকা ৫৪ পয়সা। এতে ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ভর্তুকি কমবে।

দ্বিতীয় বিকল্পে বলা হয়েছে , প্রতি ইউনিটে ১ টাকা বাড়িয়ে পাইকারি দাম ৮ টাকা ৪ পয়সা হলে ভর্তুকি ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা কমতে পারে।

তৃতীয় বিকল্প প্রস্তাব হলো, পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ২৪ পয়সা করলে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

খুচরায় যে প্রস্তাব

খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে- নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষায় শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত লাইফলাইন পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়নি। 

অন্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ধাপে ধাপে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুক্তি

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলংকা আবাসিক খাতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি দেশটি পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরে জ্বালানির মূল্য সরাসরি ট্যারিফে সমন্বিত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে শুধু স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই ‘অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা’ খরচ হয়েছে। জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ‘২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি’ দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দের ৪২ হাজার কোটি টাকার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। আগামী জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ‘৩৯ হাজার কোটি টাকা’ অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

'আইএমএফের চাপ'

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানির দাম বাজারভিত্তিক করার চাপ রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিপুল ভর্তুকি অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে, যদিও মূল্যস্ফীতি ও জনভোগান্তির আশঙ্কায় সরকার এখনও সরাসরি দাম বাড়ায়নি। তবে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার লক্ষণ না দেখায় হয়ত সরকারকে ‘মূল্য সমন্বয়ের’ দিকে এগুতে হবে বলে মনে করছেন স্বংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসির কাজ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে। উৎপাদন খরচ ও পাইকারি পর্যায়ে দামের মধ্যে ঘাটতি থাকায় সরকার নিয়মিত ভর্তুকি দেয়।

আইন অনুসারে, সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে বিপিডিবি ও বিতরণ সংস্থা বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। এরপর এসব প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করতে পারে বিইআরসি। তবে এতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে গণশুনানি ছাড়াই সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যায়।

প্রকৃত খরচ নিরূপণের পরামর্শ

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সংবাদকে বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রকৃত খরচ কত? সেটা আগে নিরূপন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে যে ঘাটতি  — সেটা লুটপাট করে, বাড়তি খরচ করে তৈরি করা হয়েছে। এ ঘাটতি ধরে দাম সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই। এভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া ভোক্তারা মেনে নেবে না।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


ভর্তুকির 'চাপ কমাতে' বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • অনুমোদন হলে ইউনিটপ্রতি বাড়তে পারে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা
  • এতে '৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা' পর্যন্ত ভর্তুকি 'কমে আসবে'
  • ‘প্রকৃত উৎপাদন খরচ’ নিয়ে প্রশ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক  জ্বালানি খাতের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। তবে বিক্রয় মূল্য না বাড়াতে ভর্তুকি বাড়ছে। এখন অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ সামলাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আবাসিকে (খুচরা পর্যায়ে) ব্যবহারভেদে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে, ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমে আসবে।

শুধু প্রান্তিকে যারা খুবই কম বিদ্যুৎ ব্যবহার (লাইফ লাইন ইউজার বা মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) করেন, তেমন গ্রাহকদের জন্য আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের।

মন্ত্রিসভা কমিটি

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা উঠলেও এখনই দাম বাড়ানো হবে না বলে ঘোষণা আসে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে  আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যুতের দাম ‘সমন্বয় করতে’ একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকছেন।

এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৯ এপ্রিল জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট সমাধানে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে প্রস্তাব প্রদানের জন্য এ কমিটি করা হয়েছে। মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে কমিটি।’

প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সামাল দিতে হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাইকারিতে বিকল্প প্রস্তাব

বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করেছে- এর প্রথমটিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ইউনিটের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট হবে ৭ টাকা ৫৪ পয়সা। এতে ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ভর্তুকি কমবে।

দ্বিতীয় বিকল্পে বলা হয়েছে , প্রতি ইউনিটে ১ টাকা বাড়িয়ে পাইকারি দাম ৮ টাকা ৪ পয়সা হলে ভর্তুকি ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা কমতে পারে।

তৃতীয় বিকল্প প্রস্তাব হলো, পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ২৪ পয়সা করলে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

খুচরায় যে প্রস্তাব

খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে- নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষায় শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত লাইফলাইন পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়নি। 

অন্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ধাপে ধাপে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুক্তি

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলংকা আবাসিক খাতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি দেশটি পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরে জ্বালানির মূল্য সরাসরি ট্যারিফে সমন্বিত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে শুধু স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই ‘অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা’ খরচ হয়েছে। জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ‘২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি’ দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দের ৪২ হাজার কোটি টাকার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। আগামী জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ‘৩৯ হাজার কোটি টাকা’ অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

'আইএমএফের চাপ'

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানির দাম বাজারভিত্তিক করার চাপ রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিপুল ভর্তুকি অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে, যদিও মূল্যস্ফীতি ও জনভোগান্তির আশঙ্কায় সরকার এখনও সরাসরি দাম বাড়ায়নি। তবে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার লক্ষণ না দেখায় হয়ত সরকারকে ‘মূল্য সমন্বয়ের’ দিকে এগুতে হবে বলে মনে করছেন স্বংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসির কাজ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে। উৎপাদন খরচ ও পাইকারি পর্যায়ে দামের মধ্যে ঘাটতি থাকায় সরকার নিয়মিত ভর্তুকি দেয়।

আইন অনুসারে, সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে বিপিডিবি ও বিতরণ সংস্থা বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। এরপর এসব প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করতে পারে বিইআরসি। তবে এতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে গণশুনানি ছাড়াই সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যায়।

প্রকৃত খরচ নিরূপণের পরামর্শ

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সংবাদকে বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রকৃত খরচ কত? সেটা আগে নিরূপন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে যে ঘাটতি  — সেটা লুটপাট করে, বাড়তি খরচ করে তৈরি করা হয়েছে। এ ঘাটতি ধরে দাম সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই। এভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া ভোক্তারা মেনে নেবে না।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত