সংবাদ

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে রাজনীতিতে, ফের সংসদে যাচ্ছেন শাম্মী


প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে রাজনীতিতে, ফের সংসদে যাচ্ছেন শাম্মী
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। (ফাইল ছবি)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমুরোড এলাকার গোছাপাড়া নামে এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা মেয়ে শাম্মী আক্তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়ার সময় স্বপ্ন দেখতেন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। লক্ষ্য ছিল কঠোর পরিশ্রমে ডিসি কিংবা সচিব হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় মেধাবী সেই ছাত্রী নিজের নিশ্চিত ক্যারিয়ারের মায়া ত্যাগ করে বেছে নেন রাজপথের অনিশ্চিত ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতি।

সেই ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার পথে শাম্মী আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং দলের সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

শাম্মী আক্তারের এই রাজনৈতিক যাত্রা কোনো সহজ পথ ছিল না। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজ মিয়ার সন্তান। পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি ছাত্রজীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তার সাহসী উপস্থিতি তাকে পরিচিতি দেয় ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে।

এর আগে ২০০৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার সংসদে গিয়েছিলেন শাম্মী আক্তার। সে সময় সংসদের ভেতরে তার তেজস্বী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ বলেন, ‘শাম্মী আক্তার আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়ে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন, কিন্তু তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথ ছাড়েননি। যখন অনেকে গা বাঁচিয়ে রাজনীতি করেছেন, শাম্মী আক্তার তখন মামলা-হামলার তোয়াক্কা না করে লড়াই করেছেন। তার এই মনোনয়ন কেবল তার প্রাপ্য নয়, এটি চুনারুঘাট তথা হবিগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, শাম্মী আক্তার আবারও সংসদে যাওয়ায় চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। বিশেষ করে অবহেলিত সীমান্ত জনপদের উন্নয়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদী তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে রাজনীতিতে, ফের সংসদে যাচ্ছেন শাম্মী

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমুরোড এলাকার গোছাপাড়া নামে এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা মেয়ে শাম্মী আক্তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়ার সময় স্বপ্ন দেখতেন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। লক্ষ্য ছিল কঠোর পরিশ্রমে ডিসি কিংবা সচিব হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় মেধাবী সেই ছাত্রী নিজের নিশ্চিত ক্যারিয়ারের মায়া ত্যাগ করে বেছে নেন রাজপথের অনিশ্চিত ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতি।

সেই ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার পথে শাম্মী আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং দলের সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

শাম্মী আক্তারের এই রাজনৈতিক যাত্রা কোনো সহজ পথ ছিল না। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজ মিয়ার সন্তান। পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি ছাত্রজীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তার সাহসী উপস্থিতি তাকে পরিচিতি দেয় ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে।

এর আগে ২০০৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার সংসদে গিয়েছিলেন শাম্মী আক্তার। সে সময় সংসদের ভেতরে তার তেজস্বী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ বলেন, ‘শাম্মী আক্তার আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়ে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন, কিন্তু তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথ ছাড়েননি। যখন অনেকে গা বাঁচিয়ে রাজনীতি করেছেন, শাম্মী আক্তার তখন মামলা-হামলার তোয়াক্কা না করে লড়াই করেছেন। তার এই মনোনয়ন কেবল তার প্রাপ্য নয়, এটি চুনারুঘাট তথা হবিগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, শাম্মী আক্তার আবারও সংসদে যাওয়ায় চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। বিশেষ করে অবহেলিত সীমান্ত জনপদের উন্নয়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদী তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত