বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী ও রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত ৩৬ জনের তালিকায় তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার মূল্যায়ন হিসেবে তার এই মনোনয়নকে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
রেজেকা সুলতানা ফেন্সি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুরের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমে একজন যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীকে মূল্যায়ন করেছেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে রেজেকা সুলতানা ফেন্সি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘রংপুর দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত। ১৯৯১ সালের পর থেকে জাতীয় সংসদে এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরার মতো নেতৃত্বের ঘাটতি ছিল। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
নিজের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঘট নদ খনন এবং ১৩০ বছরের পুরোনো শ্যামাসুন্দরী খাল পুনঃসংস্কার তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। আমি এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং বিসিক শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয়ে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখব। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’
রেজেকা সুলতানা ফেন্সি একাধারে একজন গুণী লোকসংগীতশিল্পী, আইনজীবী ও সংগঠক। ১৯৬২ সালের ৩ জানুয়ারি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুরে তার জন্ম। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার কে এ কুদ্দুস ছিলেন একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও ইউপি চেয়ারম্যান।
শৈশবে পরিবারের সঙ্গে রংপুর শহরে চলে আসা ফেন্সি রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি ও দর্শনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি রংপুর সরকারি আইন মহাবিদ্যালয় থেকে ওকালতি পাস করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কারমাইকেল কলেজে পড়ার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তিনি কমনরুম সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে তাঁর সরব উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ পরিচিত।
আপনার মতামত লিখুন