দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে| আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু| এ বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথম হাম শনাক্ত হয়| এ পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছে ৩৪ জন| হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭২ জনের|
হামের এই প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে হয়নি| ২০২৩ সালে মাত্র ৮৬ শতাংশ শিশু হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ এবং ৮১ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে| ফলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে|
ঘনবসতিপূর্ণ দেশে হামের জীবাণু দ্রুত ছড়ায়, এটি জানা কথা| সরকার এখন হটস্পটগুলোতে টিকাদান শুরু করেছে| ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা| ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হবে| পথশিশু, বস্তির শিশু, ভেদে পরিবারের শিশু এবং দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে|
এই উদ্যোগ ইতিবাচক| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শুরুর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে পারে| তবে কাগজে-কলমের পরিকল্পনা ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যেন ফাঁক না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে|
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ছিল| এই লক্ষ্য অর্জন করা কি আর সম্ভব হবে?
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ| টিকার ক্যাম্পেইন হয়তো সংক্রমণ কমাবে, কিন্তু টেকসই সুরক্ষা আসবে কেবল নিয়মিত ও পূর্ণমাত্রায় টিকাদানের মাধ্যমে|

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে| আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু| এ বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথম হাম শনাক্ত হয়| এ পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছে ৩৪ জন| হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭২ জনের|
হামের এই প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে হয়নি| ২০২৩ সালে মাত্র ৮৬ শতাংশ শিশু হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ এবং ৮১ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে| ফলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে|
ঘনবসতিপূর্ণ দেশে হামের জীবাণু দ্রুত ছড়ায়, এটি জানা কথা| সরকার এখন হটস্পটগুলোতে টিকাদান শুরু করেছে| ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা| ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হবে| পথশিশু, বস্তির শিশু, ভেদে পরিবারের শিশু এবং দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে|
এই উদ্যোগ ইতিবাচক| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শুরুর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে পারে| তবে কাগজে-কলমের পরিকল্পনা ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যেন ফাঁক না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে|
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ছিল| এই লক্ষ্য অর্জন করা কি আর সম্ভব হবে?
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ| টিকার ক্যাম্পেইন হয়তো সংক্রমণ কমাবে, কিন্তু টেকসই সুরক্ষা আসবে কেবল নিয়মিত ও পূর্ণমাত্রায় টিকাদানের মাধ্যমে|

আপনার মতামত লিখুন