সিলেট মহানগরের আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধ দমনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছেন মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এসএমপি সদর দপ্তরে আবাসিক এলাকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত সমন্বয় সভায় তিনি এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধ দমনে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে সিলেট একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত হবে।
আবাসিক এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কমিশনারের দেওয়া প্রধান প্রস্তাবনাগুলো হলো :
১. প্রত্যেক আবাসিক এলাকায় সর্বোচ্চ ১ থেকে ২টির বেশি প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাখা যাবে না। অতিরিক্ত পথগুলো বন্ধ বা সীমিত করতে হবে।
২. প্রবেশপথে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও ব্যারিকেড নিশ্চিত করতে হবে।
৩. রাত ১১টার পর বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
৪. বাসিন্দাদের যানবাহনের জন্য পরিচয়পত্র বা স্টিকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫. বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে।
৬. প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সব বাসিন্দার তথ্য পুলিশি ডেটাবেজ ‘সিআইএমএস’-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ভাড়াটে পরিবর্তনের তথ্য থানাকে জানাতে হবে।
৮. জরুরি সহায়তা পেতে ও অপরাধের তথ্য দিতে পুলিশের ‘জিনিয়া’ অ্যাপ ব্যবহারে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করতে হবে।
৯. সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহনের গতিবিধি, বখাটেদের অবস্থান কিংবা ‘কিশোর গ্যাং’ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
১০. অন্ধকার এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক লাঠি ও বাঁশি বহন নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এসএমপি কন্ট্রোল রুমের ০১৩২০-০৬৯৯৯৮ নম্বর অথবা কল সেন্টারের ০১৩৩৯৯১১৭৪২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন