সংবাদ

গ্রামবাসীর সঙ্গে প্রধামন্ত্রীর রসিকতা, ‘খিদে পাইছে আমার’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

গ্রামবাসীর সঙ্গে প্রধামন্ত্রীর রসিকতা, ‘খিদে পাইছে আমার’
নিজ গ্রামের মাটিতে প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার মাঝপথে থমকে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রামের মানুষ বললেন, আরও দুই ঘণ্টা কথা বলুন। প্রধানমন্ত্রী হেসে ফেলে বললেন, ‘আরে খিদা পাইছে আমার। বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না? নামাজ বাকি, খাওয়া বাকি, খাল কাটা বাকি, জনসভা বাকি। আবার ঢাকায় যেতে হবে। আসব আবার, কথা বলব।’

শহুরে মিটিং-সমাবেশের বক্তৃতার বাইরে নিজ গ্রামের মাটিতে প্রধানমন্ত্রীর এমন হাস্যরসাত্মক ভঙ্গি উপস্থিত হাজারো মানুষকে হাসিয়ে দেয়। তবে রসিকতার ফাঁকেই তিনি একের পর এক ঘোষণা দিয়ে যান।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেন। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী করতালিতে ভেসে ওঠেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই যুগ পর এই কলেজ মাঠে আজ আসতে পেরেছি। ১০ বছর ধরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। আজ নিজের গ্রামে এসে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে পেরেছি।’

তারেক রহমান জানান, আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে ২৩ উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ৫ বছরে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারের বেশির ভাগ মায়েদের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। এই গ্রামের মানুষকে ঘিরে আগামী পাঁচ বছরে আমরা নানা পরিকল্পনা নিয়েছি। নারী-পুরুষ দুজনকেই সমানভাবে রাষ্ট্র থেকে সহযোগিতা দিতে চাই।’

অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বাগবাড়ীকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ চলে গেছে। তাই বিবেচনা করে উন্নয়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমান ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এরপর বাটন চাপতেই ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে যায়।

চৌকিরদহ খালের খননকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চৌকিরদহ খালের খননকাজের উদ্বোধন করেন। খালপাড় দিয়ে হেঁটে বেলা সাড়ে তিনটায় তিনি পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়িতে যান। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সার্কিট হাউসে ফেরেন।

বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির জনসভায় যোগ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


গ্রামবাসীর সঙ্গে প্রধামন্ত্রীর রসিকতা, ‘খিদে পাইছে আমার’

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বক্তৃতার মাঝপথে থমকে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রামের মানুষ বললেন, আরও দুই ঘণ্টা কথা বলুন। প্রধানমন্ত্রী হেসে ফেলে বললেন, ‘আরে খিদা পাইছে আমার। বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না? নামাজ বাকি, খাওয়া বাকি, খাল কাটা বাকি, জনসভা বাকি। আবার ঢাকায় যেতে হবে। আসব আবার, কথা বলব।’

শহুরে মিটিং-সমাবেশের বক্তৃতার বাইরে নিজ গ্রামের মাটিতে প্রধানমন্ত্রীর এমন হাস্যরসাত্মক ভঙ্গি উপস্থিত হাজারো মানুষকে হাসিয়ে দেয়। তবে রসিকতার ফাঁকেই তিনি একের পর এক ঘোষণা দিয়ে যান।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেন। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী করতালিতে ভেসে ওঠেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই যুগ পর এই কলেজ মাঠে আজ আসতে পেরেছি। ১০ বছর ধরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। আজ নিজের গ্রামে এসে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে পেরেছি।’

তারেক রহমান জানান, আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে ২৩ উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ৫ বছরে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারের বেশির ভাগ মায়েদের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। এই গ্রামের মানুষকে ঘিরে আগামী পাঁচ বছরে আমরা নানা পরিকল্পনা নিয়েছি। নারী-পুরুষ দুজনকেই সমানভাবে রাষ্ট্র থেকে সহযোগিতা দিতে চাই।’

অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বাগবাড়ীকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। রাষ্ট্রের অনেক অর্থ চলে গেছে। তাই বিবেচনা করে উন্নয়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমান ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এরপর বাটন চাপতেই ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে যায়।

চৌকিরদহ খালের খননকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চৌকিরদহ খালের খননকাজের উদ্বোধন করেন। খালপাড় দিয়ে হেঁটে বেলা সাড়ে তিনটায় তিনি পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়িতে যান। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সার্কিট হাউসে ফেরেন।

বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির জনসভায় যোগ দেন তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত