সংবাদ

জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ‘ঝুঁকি’

দ্রুত বকেয়া পরিশোধের তাগিদ দিয়ে ফের আদানির চিঠি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

দ্রুত বকেয়া পরিশোধের তাগিদ দিয়ে ফের আদানির চিঠি

দ্রুত বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া পরিশোধ করতে আবারো বিদ্যুৎ, জ্বালা‌নি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানির এই প্রতিষ্ঠান চিঠিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে তাদের প্রকল্পের অর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই কয়লা (জ্বালা‌নি) ক্রয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে আদানি পাওয়ার চিঠিতে বলেছে, অন্যথায় জ্বালা‌নির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের ঝুঁকি’ থেকে যায়।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে আদানি গ্রুপের ‘গড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি’ ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে। তবে কেন্দ্রটি নিজে সচল থাকতে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ।

কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কিছুদিন বাংলাদেশকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারেনি আদানি। তবে গত ১১ এপ্রিল রাত থেকে ১৪০০ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে ভারতীয় এই কেন্দ্রটি। 

আদানি থেকে সরবরাহ কত

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় দেশে ১৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে আদানি থেকে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৯১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ; যা বিদ্যুতের মোট চাহিদার ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ সময় দেশে ১ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

ভারত থেকে মোট সরবরাহ

এ সময় (২১ এপ্রিল দুপুর ১২টা) ভেড়ামারা এইচভিডিসি হয়ে ভারত থেকে আরও ৯০৭ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত থেকে (আদানিসহ) মোট বিদ্যুৎ এসেছে ২ হাজার ৫৮০ মেগাওয়াট, যা  মোট চাহিদার ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আদানি পাওয়ারের চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানির মোট পাওনা ৬৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এরপরও বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দ্রুত পুরো বকেয়া শোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত বিল দিতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে আদানি পাওয়ার।

আগেও কয়েকবার চিঠি দিয়েছে আদানি

সর্ব‌শেষ গত ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বকেয়া চেয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ।

ওই চিঠিতে বলা হয়, চুক্তি অনুসারে তাদের পাওনা ৫৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে যা ৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।

বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদানি পাওয়ার চিঠি দিয়ে কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে বিপিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করে রাষ্টায়াত্ব এই প্রতিষ্ঠানটি। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে আবার বিল পরিশোধ কমিয়ে দেয় বিপিডিবি। এতে বকেয়া আবার বাড়তে থাকে।

এখনো হয়নি বিরোধ নিষ্পত্তি

বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নিয়ে বিপিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আদানি কয়লার ‘বাড়তি দাম ধরে’ বিল করছে। আর পিডিবি কয়লার ‘বাজারদর ধরে’ বিল পরিশোধ করছে। আদানির চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান।

রিট আবেদনের পর আদালতের আদেশে আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় ‘দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য’ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা বর্তমানে কাজ করছেন।

বিপিডিবি বলছে, আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর তারা করণীয় নির্ধারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


দ্রুত বকেয়া পরিশোধের তাগিদ দিয়ে ফের আদানির চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দ্রুত বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া পরিশোধ করতে আবারো বিদ্যুৎ, জ্বালা‌নি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানির এই প্রতিষ্ঠান চিঠিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে তাদের প্রকল্পের অর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই কয়লা (জ্বালা‌নি) ক্রয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে আদানি পাওয়ার চিঠিতে বলেছে, অন্যথায় জ্বালা‌নির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের ঝুঁকি’ থেকে যায়।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে আদানি গ্রুপের ‘গড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি’ ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে। তবে কেন্দ্রটি নিজে সচল থাকতে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ।

কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কিছুদিন বাংলাদেশকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারেনি আদানি। তবে গত ১১ এপ্রিল রাত থেকে ১৪০০ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে ভারতীয় এই কেন্দ্রটি। 

আদানি থেকে সরবরাহ কত

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় দেশে ১৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে আদানি থেকে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৯১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ; যা বিদ্যুতের মোট চাহিদার ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ সময় দেশে ১ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

ভারত থেকে মোট সরবরাহ

এ সময় (২১ এপ্রিল দুপুর ১২টা) ভেড়ামারা এইচভিডিসি হয়ে ভারত থেকে আরও ৯০৭ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত থেকে (আদানিসহ) মোট বিদ্যুৎ এসেছে ২ হাজার ৫৮০ মেগাওয়াট, যা  মোট চাহিদার ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আদানি পাওয়ারের চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানির মোট পাওনা ৬৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এরপরও বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দ্রুত পুরো বকেয়া শোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত বিল দিতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে আদানি পাওয়ার।

আগেও কয়েকবার চিঠি দিয়েছে আদানি

সর্ব‌শেষ গত ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বকেয়া চেয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ।

ওই চিঠিতে বলা হয়, চুক্তি অনুসারে তাদের পাওনা ৫৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে যা ৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।

বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদানি পাওয়ার চিঠি দিয়ে কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে বিপিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করে রাষ্টায়াত্ব এই প্রতিষ্ঠানটি। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে আবার বিল পরিশোধ কমিয়ে দেয় বিপিডিবি। এতে বকেয়া আবার বাড়তে থাকে।

এখনো হয়নি বিরোধ নিষ্পত্তি

বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নিয়ে বিপিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আদানি কয়লার ‘বাড়তি দাম ধরে’ বিল করছে। আর পিডিবি কয়লার ‘বাজারদর ধরে’ বিল পরিশোধ করছে। আদানির চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান।

রিট আবেদনের পর আদালতের আদেশে আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় ‘দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য’ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা বর্তমানে কাজ করছেন।

বিপিডিবি বলছে, আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর তারা করণীয় নির্ধারণ করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত