সংবাদ

চীফ প্রসিকিউটর

এক প্রসিকিউটরের ঘুষের অডিওর সত্যতা মিলেছে, 'অর্থ লেনদেনের' তদন্ত চলছে


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

এক প্রসিকিউটরের ঘুষের অডিওর সত্যতা মিলেছে, 'অর্থ লেনদেনের' তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ডের সত্যতা পেয়েছে এ ঘটনায় গঠিত ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ কমিটি। তবে এ ঘটনায় কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি সেটি তদন্ত করে দেখছে বলেও জানিয়েছেন চীফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চীফ প্রসিকিউটর।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলার আসামি ফজলুল করিম চৌধুরীর সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়।

এ বিষয়ে আজ ২১ এপ্রিল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর আমরা একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করি। কমিটি কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে আমরা ওই অডিও রেকর্ডটির সত্যতা পেয়েছি। সেখানে দুজনেরই (সাবেক এমপির স্ত্রী ও প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা) কথোপকথন রয়েছে।"

তবে কথোপকথন হলেও বাস্তবে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। চীফ প্রসিকিউটর বলেন, "কথোপকথনের সত্যতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু এর বাইরে তাদের মধ্যে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি সেটি তদন্ত করে দেখছে।"

অডিও ফাঁসের পর প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা যখন তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম, তখন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগ করা সত্ত্বেও আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। আশা করছি খুব শিগগিরই রিপোর্টে সবকিছু বিস্তারিত প্রকাশ পাবে।"

তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট দেওয়া পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব এবং সেই অনুযায়ী আইনগতভাবে যা হওয়ার তাই হবে।"

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে বলেও জানান চীফ প্রসিকিউটর।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে কলেজ ছাত্র ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলা থেকে রাউজান থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে এই ঘুষ চাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগ ওঠার মধ্যে চলতি বছরের ৯ মার্চ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন এবং এদিনই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরই একটি বেসরকারি টেলিভিশনে (চ্যানেল ২৪) প্রসিকিউটর সাইমুম ও ফজলে করিমের পরিবারের এক আইনজীবীর কথোপকথনের দুটি অডিও প্রচার করা হয়।

ফাঁস হওয়া ক্লিপগুলোতে সাইমুম রেজাকে সরাসরি ‘এক কোটি টাকা’ প্রত্যাশার কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে 'কিস্তিতে টাকা পরিশোধের' আলোচনার পাশাপাশি, মামলা থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা হিসেবে বিএনপির এক সংসদ সদস্য এবং এক প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ হিসেবে তুলে ধরে তার সমর্থন আদায়ে ওই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ কাজে লাগবে বলেও অডিওতে শোনা যায়।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ ও অডিওর সত্যতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাইমুম রেজা তালুকদার।  গত ৯ মার্চ রাতে ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, 'এটি একটি মহলের অপপ্রচার এবং অডিওগুলো মিথ্যা।'

তিনি লেখেন, "একজন আসামিকে খালাস করিয়ে দেয়ার বিনিময়ে নারীর সাথে কথোপকথনের দুইটি অডিও ক্লিপ, যেখানে আমি নাকি ১ কোটি টাকা দাবি করেছি, ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম চেয়েছি। এই দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য। এমন কিছু কখনও ঘটেনি, আমিও কারও থেকে এসব চাইনি।”

নিজের দাবির সপক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক একটা মামলা কয়েকজন প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে গঠিত টিমের অধীনে থাকে। কয়েকটি স্তর পার করে মামলার নথি প্রস্তুত করা হয় এবং আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে রায় প্রদান করেন। তাই একজন প্রসিকিউটরের পক্ষে কখনও একটি মামলায় কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়া সম্ভব নয়।”

তখন পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাইমুম রেজা আগের কর্মস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফিরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ফজলে করিমের আইনজীবী রেজওয়ানা ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোলাখুলি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে 'ঘুষ দেওয়া' নিয়ে দর কষাকষির বিষয়টি অস্বীকারও করেননি। কথিত অডিও রেকর্ডটি বাস্তবসম্মত কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "যেহেতু এত বড় ঘটনা, সেখানে কোনো না কোনো সত্য থাকতে পারে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


এক প্রসিকিউটরের ঘুষের অডিওর সত্যতা মিলেছে, 'অর্থ লেনদেনের' তদন্ত চলছে

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ডের সত্যতা পেয়েছে এ ঘটনায় গঠিত ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ কমিটি। তবে এ ঘটনায় কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি সেটি তদন্ত করে দেখছে বলেও জানিয়েছেন চীফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চীফ প্রসিকিউটর।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলার আসামি ফজলুল করিম চৌধুরীর সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়।

এ বিষয়ে আজ ২১ এপ্রিল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর আমরা একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করি। কমিটি কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে আমরা ওই অডিও রেকর্ডটির সত্যতা পেয়েছি। সেখানে দুজনেরই (সাবেক এমপির স্ত্রী ও প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা) কথোপকথন রয়েছে।"

তবে কথোপকথন হলেও বাস্তবে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। চীফ প্রসিকিউটর বলেন, "কথোপকথনের সত্যতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু এর বাইরে তাদের মধ্যে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি সেটি তদন্ত করে দেখছে।"

অডিও ফাঁসের পর প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা যখন তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম, তখন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগ করা সত্ত্বেও আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। আশা করছি খুব শিগগিরই রিপোর্টে সবকিছু বিস্তারিত প্রকাশ পাবে।"

তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট দেওয়া পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব এবং সেই অনুযায়ী আইনগতভাবে যা হওয়ার তাই হবে।"

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে বলেও জানান চীফ প্রসিকিউটর।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে কলেজ ছাত্র ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলা থেকে রাউজান থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে এই ঘুষ চাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগ ওঠার মধ্যে চলতি বছরের ৯ মার্চ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন এবং এদিনই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরই একটি বেসরকারি টেলিভিশনে (চ্যানেল ২৪) প্রসিকিউটর সাইমুম ও ফজলে করিমের পরিবারের এক আইনজীবীর কথোপকথনের দুটি অডিও প্রচার করা হয়।

ফাঁস হওয়া ক্লিপগুলোতে সাইমুম রেজাকে সরাসরি ‘এক কোটি টাকা’ প্রত্যাশার কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে 'কিস্তিতে টাকা পরিশোধের' আলোচনার পাশাপাশি, মামলা থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা হিসেবে বিএনপির এক সংসদ সদস্য এবং এক প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ হিসেবে তুলে ধরে তার সমর্থন আদায়ে ওই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ কাজে লাগবে বলেও অডিওতে শোনা যায়।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ ও অডিওর সত্যতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাইমুম রেজা তালুকদার।  গত ৯ মার্চ রাতে ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, 'এটি একটি মহলের অপপ্রচার এবং অডিওগুলো মিথ্যা।'

তিনি লেখেন, "একজন আসামিকে খালাস করিয়ে দেয়ার বিনিময়ে নারীর সাথে কথোপকথনের দুইটি অডিও ক্লিপ, যেখানে আমি নাকি ১ কোটি টাকা দাবি করেছি, ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম চেয়েছি। এই দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য। এমন কিছু কখনও ঘটেনি, আমিও কারও থেকে এসব চাইনি।”

নিজের দাবির সপক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক একটা মামলা কয়েকজন প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে গঠিত টিমের অধীনে থাকে। কয়েকটি স্তর পার করে মামলার নথি প্রস্তুত করা হয় এবং আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে রায় প্রদান করেন। তাই একজন প্রসিকিউটরের পক্ষে কখনও একটি মামলায় কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়া সম্ভব নয়।”

তখন পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাইমুম রেজা আগের কর্মস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফিরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ফজলে করিমের আইনজীবী রেজওয়ানা ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোলাখুলি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে 'ঘুষ দেওয়া' নিয়ে দর কষাকষির বিষয়টি অস্বীকারও করেননি। কথিত অডিও রেকর্ডটি বাস্তবসম্মত কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "যেহেতু এত বড় ঘটনা, সেখানে কোনো না কোনো সত্য থাকতে পারে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত