সংবাদ

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর: মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর: মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা এবং রহস্যজনকভাবে তা প্রত্যাহার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জনস্বার্থে এই রিট (পিআইএল) আবেদন করেন। রিটের বিষয়টি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।

রিট আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, গত ৯ মার্চ (২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলায় রাহিত খান ওরফে পাভেল নামের এক শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হন। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর মা সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে আমলযোগ্য অপরাধ ও অভিযুক্তদের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দেন।

রিটে অভিযোগ করা হয়, এজাহারে আমলযোগ্য অপরাধের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তা এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ব্যর্থ হয়, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ওই এজাহারটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়। রিটকারীর দাবি, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

আবেদনে বলা হয়, একটি পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও প্রক্টর অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিবাদীদের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনের শাসন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রিটকারী আইনজীবী।

রিট আবেদনে বিবাদীদের প্রতি একটি রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থাকা সত্ত্বেও এফআইআর গ্রহণ না করা এবং বেআইনিভাবে তা প্রত্যাহার দেখানোকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থানার ওসিকে অবিলম্বে এফআইআরটি রেকর্ড করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।

পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনায় জড়িত অপরাধী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর: মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা এবং রহস্যজনকভাবে তা প্রত্যাহার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জনস্বার্থে এই রিট (পিআইএল) আবেদন করেন। রিটের বিষয়টি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।

রিট আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, গত ৯ মার্চ (২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলায় রাহিত খান ওরফে পাভেল নামের এক শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হন। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর মা সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে আমলযোগ্য অপরাধ ও অভিযুক্তদের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দেন।

রিটে অভিযোগ করা হয়, এজাহারে আমলযোগ্য অপরাধের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তা এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ব্যর্থ হয়, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ওই এজাহারটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়। রিটকারীর দাবি, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

আবেদনে বলা হয়, একটি পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও প্রক্টর অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিবাদীদের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনের শাসন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রিটকারী আইনজীবী।

রিট আবেদনে বিবাদীদের প্রতি একটি রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থাকা সত্ত্বেও এফআইআর গ্রহণ না করা এবং বেআইনিভাবে তা প্রত্যাহার দেখানোকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থানার ওসিকে অবিলম্বে এফআইআরটি রেকর্ড করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।

পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনায় জড়িত অপরাধী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত