বৈশাখের তীব্র খরতাপে পুড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চল। ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় বরেন্দ্রের আম ও লিচুচাষিদের স্বপ্নও পুড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির অভাবে গাছের নিচে ঝরে পড়ছে আমের গুটি, আর প্রচণ্ড গরমে গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু। এমন পরিস্থিতিতে ফলন বিপর্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চল সূত্রে জানা যায়, এই চার জেলায় ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন। এ ছাড়া এ অঞ্চলে ১ হাজার ৭০১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বললেই চলে।
বাগানমালিক ও চাষিরা বলছেন, শীতের শেষে এবার আমের মুকুল ভালো এসেছিল। কিন্তু টানা তাপপ্রবাহের কারণে এখন গুটি ঝরে যাচ্ছে। আর উচ্চ তাপমাত্রা ও মাটির আর্দ্রতার অভাবে লিচু বড় হওয়ার আগেই ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পবা উপজেলার লিচুচাষি আব্দুল মালেক বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম। হঠাৎ আবহাওয়া এমন অস্থির হয়ে ওঠায় গাছের লিচু ফেটে যাচ্ছে। আমরা খুব চিন্তায় আছি।’
বাঘা উপজেলার বড় আমচাষি ও রপ্তানিকারক শফিকুল ইসলাম সানা জানান, এবার ৩০০ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন তিনি। কিন্তু তাপদাহে আমের গুটি ঝরে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই উদ্বেগ জানান গোদাগাড়ীর কৃষক শফিকুল ইসলাম ও চারঘাটের নজরুল ইসলাম। তাদের মতে, বৃষ্টির অভাবে আমের আকার বাড়ছে না এবং লিচুর খোসা সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ফেটে যাচ্ছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘লিচু ফাটা ও আম ঝরে পড়া রোধে আমরা চাষিদের নিয়মিত হালকা সেচ দেওয়া এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। গাছের পরিচর্যায় বাড়তি নজর দিলে এই ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে আম ও লিচুর অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়।’
চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া এমন থাকলে এবং দ্রুত বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এ অঞ্চলের ফলচাষিরা।
আপনার মতামত লিখুন