শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কুমিল্লার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং সেখান থেকে ফেইসবুক লাইভ করেছেন একজন সংসদ সদস্য (এমপি)। প্রশ্ন উঠেছে, একজন আইন প্রণেতা হয়েও কেন তিনি শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ভুলে গেলেন? এটা কি বিচ্ছিন্ন ভুল, নাকি জটিল মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার প্রতিফলন।
আবার অনেক এমপি মনে করেন, এলাকার মানুষ তাদের ‘বেশি সক্রিয়’ দেখতে চান। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে লাইভ করাটা তাদের দৃষ্টিতে ‘দায়িত্ব পালন’। কারণ এটি ভোটারদের কাছে বার্তা দেয় যে ‘আমি আছি, আমি দেখছি, আমি অনেক বেশি তৎপর।’ অনেক এমপি এমন ‘ভোট-বান্ধব ইমেজ’ তৈরির তাড়নায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের কথা ভুলে যান।
অনেক এমপি মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ জাতীয় পর্যায়ের। সেক্ষেত্রে তারা ‘আমার এলাকায় আমার কর্তৃত্বই বড়’ মনে করেন।এমন মানসিকতা তাকে নির্দেশ অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। এমপি ভেবে বসেন, ‘মন্ত্রী ঢাকায় বসে নির্দেশ দিয়েছেন।কিন্তু আমি তো মাঠে আছি। তাই আমার সিদ্ধান্তটাই এখানে প্রাসঙ্গিক।’
সরকার বা মন্ত্রীদের এমন নির্দেশনা অমান্য করার শাস্তি খুবই বিরল।শিক্ষাবোর্ড ‘খতিয়ে দেখার’ কথা বললেও সাধারণ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির নজির নেই বললেই চলে। তাছাড়া দলীয় শৃঙ্খলাও খুব একটা কাজ করে না। ফলে ‘কিছুই হবে না’- এমন আত্মবিশ্বাস ভর করে তাদের ওপর।
তাছাড়া দেশের প্রান্তিক সমাজে এখনও ‘বড়মানুষি’ মানসিকতা রয়ে গেছে। এমপিরা এলাকার ‘বড় মানুষ’ হিসেবে বিবেচিত হন। তাই প্রথাগত বা সামাজিক বিবেচনায় তারা মনে করেন সব জায়গায় বিনা বাধায় তাদের প্রবেশের অধিকার রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রকে তারা ব্যতিক্রম ভাবেন না। সামাজিকভাবে তাদের প্রত্যাশা থাকে ‘আমি এমপি, আমাকে তো কেউ আটকাবে না’।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আবার ‘জনদরদি নেতা’ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। যে নেতা বা জনপ্রতিনিধি যত বেশি লাইভ করবেন, ছবি ছড়াবেন- তিনি তত বেশি সক্রিয় বলে বিবেচিত হন। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘কুশল বিনিময়’ বা তাদের সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও করা দায়িত্বশীল নেতার কাজ বলেই মনে করেন।
সাধারণত দেখা যায়, অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিকে ‘না’ বলতে সাহস পান না। জনপ্রতিনিধি বা এমপিরা ‘বিরক্ত’ হলে ভবিষ্যতে তাকে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ভয়ে কর্মকর্তারা চুপ থাকেন। এই নীরবতাই জনপ্রতিনিধির মনে শক্তি যোগায়।
মনোবিজ্ঞানের পরিচিত ঘটনা হচ্ছে, ক্ষমতা মানুষের আচরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডেবোরি গ্রুনফেল্ড ও অন্যান্য গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করেন। তাদের মধ্যে ‘আমি আলাদা’ ও ‘আমার জন্য আলাদা নিয়ম’ এই ভাবনা তৈরি হয়।
আবার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘ইলিউশন অব ইনভালনারেবিলিটি’ (অভেদ্যতা বা অপরাজেয়তার ভ্রম) তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, ‘আমার কিছুই হবে না, আমাকে কেউ কিছু বলতে পারবে না।’ এই ভ্রম থেকেই তিনি উপরের নির্দেশকেও ‘আমার জন্য প্রযোজ্য নয়’ ভাবেন।
সেই জনপ্রতিনিধি নিজেকে বোঝান যে, ‘আমি তো পরীক্ষা দেখতে গিয়েছি- যেটা খারাপ কাজ নয়। যাওয়া যদি ভালো কাজ হয়, তাহলে নির্দেশ অমান্য করলেও তো সমস্যা নেই।’ তিনি নির্দেশের চেয়ে তার মতো করে নিজের কাজের ‘ভালো’ দিকটাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
যে জনপ্রতিনিধি পরীক্ষাকেন্দ্র বা এমন কোনো জায়গায় ফেইসবুক লাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তিনি মূলত ‘স্বীকৃতি’ চান। অনেকটা এরকম, ‘আমি কত ভালো কাজ করছি, মানুষ দেখুক’। এই আত্মমুগ্ধতা তাকে ভুলিয়ে দেয় পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশের কথা। পরীক্ষার্থীদের কথা তার মাথায় আসে না, আসে শুধু নিজের ইমেজ।
কোনো জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তারা নেতাবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। শিক্ষার্থীরা যখন দেখে যে, আইন প্রণেতা নিজেই নির্দেশ অমান্য করছেন, তখন তাদের মনে ‘আইন কেবল ছোটদের জন্য, বড়রা যা খুশি করতে পারেন’ জাতীয় ধারণা তৈরি হয়।
নির্দেশ অমান্যের এই ঘটনা আবার একটা ‘দৃষ্টান্ত’ বা ‘উদাহরণ’ তৈরি করে। ফলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘অমুক তো গিয়েছে, আমিও যেতে পারি।’ এমন ধারণা থেকে শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করবে।
পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অপরিচিত ক্যামেরা ও লাইভ সম্প্রচার শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তারা পরীক্ষায় মনোয়োগের পরিবর্তে ক্যামেরার দিকে তাকায়। এটি পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু যে শিক্ষার্থীদের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা নয়, শিক্ষকদের কর্তৃত্বও হ্রাস করে দিতে পারে এমন চর্চা। যখন একজন এমপি কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককে ইশারায় সরে যেতে বলেন, তখন ওই শিক্ষকের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষককে কম গুরুত্ব দেবে।
নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করতে হবে, শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে- তা খুবই জরুরি। কারণ আইন প্রণেতারাই যদি আইন বা নির্দেশ অমান্য করতে শুরু করে তাহলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট হবে। যে কারণে শুধু ‘খতিয়ে দেখা’ নয়, যিনি নির্দেশ অমান্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।
গণমাধ্যমকে এমন ঘটনা তুলে ধরতে হবে জনপ্রতিনিধিদের ‘লজ্জিত’ করার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পান। তাছাড়া এমপি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করছে সেই দলকেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখতে হবে।
মূলত, আইন প্রণেতা হয়েও নির্দেশ অমান্য বা আইন ভাঙা ‘ক্ষমতার অহংকারের’ ফলাফল। একজন এমপিকে মনে রাখতে হবে, তিনি প্রথমে একজন নাগরিক, পরে জনপ্রতিনিধি। শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ তার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কুমিল্লার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং সেখান থেকে ফেইসবুক লাইভ করেছেন একজন সংসদ সদস্য (এমপি)। প্রশ্ন উঠেছে, একজন আইন প্রণেতা হয়েও কেন তিনি শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ভুলে গেলেন? এটা কি বিচ্ছিন্ন ভুল, নাকি জটিল মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার প্রতিফলন।
আবার অনেক এমপি মনে করেন, এলাকার মানুষ তাদের ‘বেশি সক্রিয়’ দেখতে চান। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে লাইভ করাটা তাদের দৃষ্টিতে ‘দায়িত্ব পালন’। কারণ এটি ভোটারদের কাছে বার্তা দেয় যে ‘আমি আছি, আমি দেখছি, আমি অনেক বেশি তৎপর।’ অনেক এমপি এমন ‘ভোট-বান্ধব ইমেজ’ তৈরির তাড়নায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের কথা ভুলে যান।
অনেক এমপি মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ জাতীয় পর্যায়ের। সেক্ষেত্রে তারা ‘আমার এলাকায় আমার কর্তৃত্বই বড়’ মনে করেন।এমন মানসিকতা তাকে নির্দেশ অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। এমপি ভেবে বসেন, ‘মন্ত্রী ঢাকায় বসে নির্দেশ দিয়েছেন।কিন্তু আমি তো মাঠে আছি। তাই আমার সিদ্ধান্তটাই এখানে প্রাসঙ্গিক।’
সরকার বা মন্ত্রীদের এমন নির্দেশনা অমান্য করার শাস্তি খুবই বিরল।শিক্ষাবোর্ড ‘খতিয়ে দেখার’ কথা বললেও সাধারণ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির নজির নেই বললেই চলে। তাছাড়া দলীয় শৃঙ্খলাও খুব একটা কাজ করে না। ফলে ‘কিছুই হবে না’- এমন আত্মবিশ্বাস ভর করে তাদের ওপর।
তাছাড়া দেশের প্রান্তিক সমাজে এখনও ‘বড়মানুষি’ মানসিকতা রয়ে গেছে। এমপিরা এলাকার ‘বড় মানুষ’ হিসেবে বিবেচিত হন। তাই প্রথাগত বা সামাজিক বিবেচনায় তারা মনে করেন সব জায়গায় বিনা বাধায় তাদের প্রবেশের অধিকার রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রকে তারা ব্যতিক্রম ভাবেন না। সামাজিকভাবে তাদের প্রত্যাশা থাকে ‘আমি এমপি, আমাকে তো কেউ আটকাবে না’।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আবার ‘জনদরদি নেতা’ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। যে নেতা বা জনপ্রতিনিধি যত বেশি লাইভ করবেন, ছবি ছড়াবেন- তিনি তত বেশি সক্রিয় বলে বিবেচিত হন। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘কুশল বিনিময়’ বা তাদের সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও করা দায়িত্বশীল নেতার কাজ বলেই মনে করেন।
সাধারণত দেখা যায়, অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিকে ‘না’ বলতে সাহস পান না। জনপ্রতিনিধি বা এমপিরা ‘বিরক্ত’ হলে ভবিষ্যতে তাকে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ভয়ে কর্মকর্তারা চুপ থাকেন। এই নীরবতাই জনপ্রতিনিধির মনে শক্তি যোগায়।
মনোবিজ্ঞানের পরিচিত ঘটনা হচ্ছে, ক্ষমতা মানুষের আচরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডেবোরি গ্রুনফেল্ড ও অন্যান্য গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করেন। তাদের মধ্যে ‘আমি আলাদা’ ও ‘আমার জন্য আলাদা নিয়ম’ এই ভাবনা তৈরি হয়।
আবার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘ইলিউশন অব ইনভালনারেবিলিটি’ (অভেদ্যতা বা অপরাজেয়তার ভ্রম) তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, ‘আমার কিছুই হবে না, আমাকে কেউ কিছু বলতে পারবে না।’ এই ভ্রম থেকেই তিনি উপরের নির্দেশকেও ‘আমার জন্য প্রযোজ্য নয়’ ভাবেন।
সেই জনপ্রতিনিধি নিজেকে বোঝান যে, ‘আমি তো পরীক্ষা দেখতে গিয়েছি- যেটা খারাপ কাজ নয়। যাওয়া যদি ভালো কাজ হয়, তাহলে নির্দেশ অমান্য করলেও তো সমস্যা নেই।’ তিনি নির্দেশের চেয়ে তার মতো করে নিজের কাজের ‘ভালো’ দিকটাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
যে জনপ্রতিনিধি পরীক্ষাকেন্দ্র বা এমন কোনো জায়গায় ফেইসবুক লাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তিনি মূলত ‘স্বীকৃতি’ চান। অনেকটা এরকম, ‘আমি কত ভালো কাজ করছি, মানুষ দেখুক’। এই আত্মমুগ্ধতা তাকে ভুলিয়ে দেয় পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশের কথা। পরীক্ষার্থীদের কথা তার মাথায় আসে না, আসে শুধু নিজের ইমেজ।
কোনো জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তারা নেতাবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। শিক্ষার্থীরা যখন দেখে যে, আইন প্রণেতা নিজেই নির্দেশ অমান্য করছেন, তখন তাদের মনে ‘আইন কেবল ছোটদের জন্য, বড়রা যা খুশি করতে পারেন’ জাতীয় ধারণা তৈরি হয়।
নির্দেশ অমান্যের এই ঘটনা আবার একটা ‘দৃষ্টান্ত’ বা ‘উদাহরণ’ তৈরি করে। ফলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘অমুক তো গিয়েছে, আমিও যেতে পারি।’ এমন ধারণা থেকে শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করবে।
পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অপরিচিত ক্যামেরা ও লাইভ সম্প্রচার শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তারা পরীক্ষায় মনোয়োগের পরিবর্তে ক্যামেরার দিকে তাকায়। এটি পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু যে শিক্ষার্থীদের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা নয়, শিক্ষকদের কর্তৃত্বও হ্রাস করে দিতে পারে এমন চর্চা। যখন একজন এমপি কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককে ইশারায় সরে যেতে বলেন, তখন ওই শিক্ষকের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষককে কম গুরুত্ব দেবে।
নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করতে হবে, শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে- তা খুবই জরুরি। কারণ আইন প্রণেতারাই যদি আইন বা নির্দেশ অমান্য করতে শুরু করে তাহলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট হবে। যে কারণে শুধু ‘খতিয়ে দেখা’ নয়, যিনি নির্দেশ অমান্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।
গণমাধ্যমকে এমন ঘটনা তুলে ধরতে হবে জনপ্রতিনিধিদের ‘লজ্জিত’ করার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পান। তাছাড়া এমপি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করছে সেই দলকেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখতে হবে।
মূলত, আইন প্রণেতা হয়েও নির্দেশ অমান্য বা আইন ভাঙা ‘ক্ষমতার অহংকারের’ ফলাফল। একজন এমপিকে মনে রাখতে হবে, তিনি প্রথমে একজন নাগরিক, পরে জনপ্রতিনিধি। শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ তার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

আপনার মতামত লিখুন