সংবাদ

দেড় মাসে আক্রান্ত ৭৭৪

কুষ্টিয়ায় হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৩৯


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

কুষ্টিয়ায় হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৩৯
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ( শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) নতুন করে ৩৯ জন সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত দেড় মাসে জেলায় মোট ৭৭৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে জেলায় মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩ জন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিগত ২৪ ঘণ্টার তথ্যে দেখা যায়, নতুন করে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৯ জন। তার মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১জন, কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১২জন, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তবে এখনো জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব  বিদ্যমান থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্বস্তির বিষয়, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সন্দেহভাজন হাম রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৮ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সঠিক চিকিৎসা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত এই বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর ও শরীরে লালচে দানার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ইপিআই আওতায় শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের আলাদা রাখা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও তরল খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমেই এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


কুষ্টিয়ায় হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৩৯

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়া জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ( শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) নতুন করে ৩৯ জন সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত দেড় মাসে জেলায় মোট ৭৭৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে জেলায় মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩ জন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিগত ২৪ ঘণ্টার তথ্যে দেখা যায়, নতুন করে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৯ জন। তার মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১জন, কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১২জন, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তবে এখনো জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব  বিদ্যমান থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্বস্তির বিষয়, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সন্দেহভাজন হাম রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৮ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সঠিক চিকিৎসা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত এই বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর ও শরীরে লালচে দানার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ইপিআই আওতায় শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের আলাদা রাখা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও তরল খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমেই এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা সম্ভব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত