সংবাদ

স্মারকলিপি প্রদান

তীব্র গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর ১২টায় ছুটির দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

তীব্র গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর ১২টায় ছুটির দাবি

সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের ১ কোটিরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন এবং শনিবারের ছুটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

র‌বিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেয় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস চলায় প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
​স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বর্তমানে সারাদেশে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুরা সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় যেমন তাপের সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে অধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কারণে গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু করে সাড়ে ৯টার মধ্যে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস দুপুর ১২টার মধ্যে শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, সকাল ৭টার দিকে তাপমাত্রা সহনীয় থাকে, তাই সময় এগিয়ে আনলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কম হবে।
​স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, গরমের সময় দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুরা ঘেমে একাকার হয়ে যায়, যা তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিক্ষকদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, "শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কসাই মনোবৃত্তির মানুষ হিসেবে ধারণা পোষণ করে থাকেন। শিক্ষকদের যে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করার নেই, বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে থাকার কথা নয়।"
বিকেলে ৪টায় যখন শিশুরা প্রচণ্ড রোদ মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরে, তখন তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
​শনিবারের ছুটি বহাল রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংগঠনটি জানিয়েছে, মাধ্যমিকের তুলনায় প্রাথমিকে শিখন ঘাটতি অনেক কম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, "গরমের এই তীব্রতায় প্রাথমিকের শিখন ঘাটতি পূরণের নামে শনিবার খোলা রাখা চরম বৈষম্য। পাশাপাশি এককভাবে শুধু শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও থাকে নগণ্য। এতে শিখন ঘাটতি পূরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।"
শিক্ষকদের দাবি, শিখন ঘাটতির মূল কারণ দারিদ্র্য ও অভিভাবকের সচেতনতার অভাব, যা অতিরিক্ত ক্লাস দিয়ে পূরণ সম্ভব নয়।
​স্মারকলিপি প্রদানের সময় ফোরামের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য সচিব মো. সামছুদ্দিন বাবুল, যুগ্ম-সদস্য সচিব সুবল চন্দ্র পাল এবং সাংগঠনিক সচিব মো. আব্দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
এই দাবিনামার অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে বলেন, "স্মারকলিপিটি আমি এখনো দেখিনি। যদি তারা এটা দিয়ে থাকেন, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


তীব্র গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর ১২টায় ছুটির দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের ১ কোটিরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন এবং শনিবারের ছুটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

র‌বিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেয় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস চলায় প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
​স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বর্তমানে সারাদেশে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুরা সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় যেমন তাপের সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে অধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কারণে গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু করে সাড়ে ৯টার মধ্যে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস দুপুর ১২টার মধ্যে শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, সকাল ৭টার দিকে তাপমাত্রা সহনীয় থাকে, তাই সময় এগিয়ে আনলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কম হবে।
​স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, গরমের সময় দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুরা ঘেমে একাকার হয়ে যায়, যা তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিক্ষকদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, "শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কসাই মনোবৃত্তির মানুষ হিসেবে ধারণা পোষণ করে থাকেন। শিক্ষকদের যে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করার নেই, বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে থাকার কথা নয়।"
বিকেলে ৪টায় যখন শিশুরা প্রচণ্ড রোদ মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরে, তখন তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
​শনিবারের ছুটি বহাল রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংগঠনটি জানিয়েছে, মাধ্যমিকের তুলনায় প্রাথমিকে শিখন ঘাটতি অনেক কম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, "গরমের এই তীব্রতায় প্রাথমিকের শিখন ঘাটতি পূরণের নামে শনিবার খোলা রাখা চরম বৈষম্য। পাশাপাশি এককভাবে শুধু শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও থাকে নগণ্য। এতে শিখন ঘাটতি পূরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।"
শিক্ষকদের দাবি, শিখন ঘাটতির মূল কারণ দারিদ্র্য ও অভিভাবকের সচেতনতার অভাব, যা অতিরিক্ত ক্লাস দিয়ে পূরণ সম্ভব নয়।
​স্মারকলিপি প্রদানের সময় ফোরামের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য সচিব মো. সামছুদ্দিন বাবুল, যুগ্ম-সদস্য সচিব সুবল চন্দ্র পাল এবং সাংগঠনিক সচিব মো. আব্দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
এই দাবিনামার অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে বলেন, "স্মারকলিপিটি আমি এখনো দেখিনি। যদি তারা এটা দিয়ে থাকেন, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত