সংবাদ

এবার সেই শিক্ষিকা-অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম


জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী
জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

এবার সেই শিক্ষিকা-অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম
সংবাদ সম্মেলনে দাবি তোলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে মারধর ও হাতাহাতির ঘটনায় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইউজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যাতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাদের দাবি, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন।সে সময় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।

তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রচার করেছে, যাতে আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা।

আব্দুস সামাদ বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এলাকাবাসীকে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলেন না। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা জানান, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে কিছু ব্যক্তি হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন বিএনপির নেতারা।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।’

দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করে। তবে কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় আসেনি বা কোনো অভিযোগ দেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


এবার সেই শিক্ষিকা-অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে মারধর ও হাতাহাতির ঘটনায় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইউজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যাতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাদের দাবি, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন।সে সময় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।

তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রচার করেছে, যাতে আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা।

আব্দুস সামাদ বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এলাকাবাসীকে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলেন না। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা জানান, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে কিছু ব্যক্তি হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন বিএনপির নেতারা।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।’

দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করে। তবে কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় আসেনি বা কোনো অভিযোগ দেয়নি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত